তুম্বাজোতের বেহাল সেতু নিয়ে আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ

315

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : তিনবছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে রয়েছে তুম্বাজোতের শহিদ ক্ষুদিরাম সেতু। শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়ার মধ্যে সংযোগকারী বড়ো গর্তে ভরা এই সেতুতে কয়েকবার গর্ত ভরাট করা হলেও আদতে সেগুলি কোনো কাজে আসেনি। এমনকি গর্তগুলি থেকে বিপজ্জনকভাবে লোহার রড বেরিয়ে আসায় প্রায়ই ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সংযোগকারী এই সেতুটি ক্রমশ দুর্বল হতে থাকায় আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ও গাড়ির চালকরা।

পঞ্চনই নদীর উপর এই সেতুটি ২০০১ সালে চালু হয়। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের তত্কালীন সভাধিপতি অনিল সাহার উদ্যোগে সেতুটি তৈরি হয়। শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়ার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠায় এই সেতু দিয়ে সবসময়ই বড়ো, ছোটো গাড়ি চলাচল করে। বহু স্কুল পড়ুয়াও এই পথ ব্যবহার করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পাঁচবছর আগে সেতুটি শেষবারের মতো সংস্কার করা হয়। এরপর নতুন করে কোনো কাজ হয়নি। মাঝে কয়েকবার মহকুমা পরিষদের তরফে গর্তগুলি ভরাট করা হলেও এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থা হয়ে যায় বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা অলোক দাস বলেন, তিনবছরেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি এই অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে লোক দেখানোর জন্য গর্তগুলি ভরাট করা হয়। কিন্তু আদতে কিছু লাভ হয়নি। যেভাবে গর্তের সঙ্গে বড়ো বড়ো রড বেরিয়ে এসেছে তাতে পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে উঠছে। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন অভিজিত্ রায়। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে গর্তগুলি জলে ভরে যায়। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। একদিন তো বুঝতে না পেরে সাইকেলের চাকা গর্তে ঢুকে গিয়েছিল। লোহার রডে লেগে টায়ার ফেটে যায়। অল্পের জন্য বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা থেকে সেবার বেঁচে গিয়েছিলাম। একইভাবে আচমকা গর্তে পা দিয়ে দেওয়ায় লোহার রডে লেগে এক স্কুল পড়ুয়ারও কিছুদিন আগে পায়ে আঘাত লেগেছিল বলে জানান এলাকার বাসিন্দা মহেন্দ্র রায়। তিনি বলেন, এখানে বড়োসড়ো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যেভাবে ভেঙে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে তাতে সেতুটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, এটা ঠিক যে সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি যেহেতু বর্তমানে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-র আওতায় রয়েছে তাই আমি মহকুমা পরিষদের  অতিরিক্ত কার্যনির্বাহী আধিকারিকের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করি দ্রুত কাজ শুরু হয়ে যাবে।