সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : বেহাল কাঠের সেতুর জন্য বর্ষায় বিপাকে পড়েছেন রাইচেঙ্গা ও পারঙ্গেরপাড় গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। ফালাকাটা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ওই সেতু দিয়ে দুই গ্রামের পাশাপাশি কাদম্বিনী চা বাগানের বাসিন্দাদের একাংশ ফালাকাটায় যেতে সমস্যায় পড়ছেন। তাঁদের অভিযোগ, বেশি বৃষ্টি হলেই ওই কাঠের সেতুর উপর দিয়ে জল বয়ে যায়। তার উপর বহু পুরোনো সেতুটির কয়েক জায়গা ভেঙে গিয়েছে। বিপজ্জনকভাবে তার উপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে স্কুল পড়ুয়াদের। বেশি সমস্যায় পড়ছেন রাইচেঙ্গা গ্রামের কৃষকরা। কারণ প্রায় ৫০০ মিটার দূরে রয়েছে ফালাকাটার কিষান মান্ডি। তাই ওই বেহাল সেতু দিয়ে কৃষিপণ্য নিতে না পারায় অনেকেই ঘুরপথে কিষান মান্ডিতে যাচ্ছেন। এর জন্য পরিবহণ খরচও বেশি লাগছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দশ বছর ধরে দাবি জানানো হলেও দোলং নদীর উপর পাকা সেতু তৈরি হচ্ছে না। সেতু তৈরির জন্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন উদ্যোগী হচ্ছে না বলে অভিযোগ। আলিপুরদুয়ার জেলাপরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সন্তোষ বর্মন বলেন, ওখানে পাকা সেতু তৈরির প্রস্তাব উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে পাঠানো রয়েছে। বিষয়টি এখন কী অবস্থায় আছে তা খোঁজ নিয়ে দেখব।

শহর লাগোয়া ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রাইচেঙ্গা বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দোলং নদীর উপর আগে সাঁকো ছিল। প্রতি বছর বর্ষায় সেই সাঁকো ভেঙে পড়ত। প্রশাসনের তরফে কয়েক বছর আগে ওই সাঁকোর জায়গায় কাঠের সেতু তৈরি করা হয়। সেতুটি বেহাল হয়ে পড়লে গত বছর মেরামতও করা হয়। কিন্তু বছর ঘুরতেই ফের কাঠের সেতুটি বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। মাঝখানে কাঠের পাটাতনও ভাঙতে শুরু করেছে। সেতুর খুঁটিগুলিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ছোটো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এমনকি সাইকেল বা মোটরবাইক নিয়ে চলাচল করলেও সেতুটি দুলতে শুরু করে। মাঝেমধ্যে ওই সেতুতে দুর্ঘটনাও হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সেতুর পশ্চিম দিকে পারঙ্গেরপাড় এবং পূর্ব ও উত্তর দিকে রয়েছে রাইচেঙ্গা গ্রাম। বর্ষাকালে এজন্য বেশি বিপাকে পড়তে হয় এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের।

পারঙ্গেরপাড় গ্রামের অধিকাংশ পড়ুয়াকে ওই সেতুর উপর দিয়ে যেতে হয়। দশম শ্রেণির পড়ুয়া বিক্রম রায় বলে, বর্ষায় বিপজ্জনকভাবে কাঠের সেতু পার হতে হয়। আবার বেশি বৃষ্টি হলে সেতুর উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করে। সেই সময় আমাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এলাকার বাসিন্দা কৃষক রাম বিশ্বাস বলেন, বাড়ির কাছে কিষান মান্ডি থাকলেও এখানে পাকা সেতু না থাকায় অনেকটা ঘুরপথে কৃষিপণ্য নিয়ে য়েতে হচ্ছে। এজন্য পরিবহণ খরচও বেশি লাগছে। এ ব্যাপারে ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান চঞ্চল অধিকারী বলেন, ওই কাঠের সেতুটি আগেও গ্রাম পঞ্চায়ে থেকে মেরামত করা হয়েছিল। তবে ভাঙতে শুরু করলে পুনরায় সেতুটি মেরামত করা হবে।