বন পাহারায় কেনা হচ্ছে ৩০ কোটি টাকার অস্ত্র-গাড়ি

36

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : বনসম্পদ পাহারায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং গাড়ি কিনছে বন দপ্তর। ৩০ কোটি টাকার বেশি এইসব সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তার টেন্ডার করে ফেলেছে রাজ্য বন দপ্তর। অপেক্ষা শুধু অর্থ দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের। পিস্তল থেকে শুরু করে রাইফেল, পাহাড় এবং জঙ্গলে চলাচলের সুবিধাজনক মোটরবাইক ও বড় গাড়ি রয়েছে সেই তালিকায়। যা কেনা হবে তার ৯৫ শতাংশই উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলি পাহারার জন্য পাঠানো হবে। এছাড়া জঙ্গলে চোরাশিকার ঠেকাতে বিশেষ সোর্স নিয়োগ করা হবে।

রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক শনিবার বলেন, ৩০ কোটি টাকার বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন গাড়ি কেনা হবে। এগুলো না কিনলে কাজ করা যাচ্ছে না। কাঠ পাচারকারী, বন্যপ্রাণী পাচারকারী, সাপের বিষ পাচারকারীদের মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। তাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র আছে। তাদের ধরতে হলে আধুনিক গাড়ি, আগ্নেয়াস্ত্র থাকতে হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, যা সামগ্রী কেনা হবে তার মধ্যে সুন্দরবন, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের জন্য কিছু রেখে বাকি ৯৫ শতাংশ সরঞ্জামই উত্তরবঙ্গে পাঠানো হবে।

- Advertisement -

শুধু অস্ত্র কেনা নয়, তা চালানোর মতো প্রশিক্ষণ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বন দপ্তর। বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে ফরেস্ট গার্ডদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাঁরা সবকিছু ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেন। জঙ্গলের ভিতরে কী হচ্ছে, তার প্রতি মুহূর্তের খবর পাওয়ার জন্য সোর্স নেওয়া হবে। তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য টাকা খরচের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। তা উঠে গেলেই অর্থ দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে কাজগুলি করা হবে।

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাচারকারীদের শায়েস্তা করতে ৩০০টি অত্যাধুনিক রিভলভার, ৫০টি পিস্তল এবং ৫০টি এসএলআর কেনা হবে। বনে টহলদারির জন্য ১০০টি মারুতি জিপসি এবং ১০০টি মাহিন্দ্রা জিপসি কেনা হবে। এছাড়া বনকর্মীদের পাহারার জন্য ৩০০টি মোটরবাইক কেনা হবে। তার মধ্যে বুলেটের মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বাইকও রয়েছে। সবমিলিয়ে ৩০ কোটি টাকা বাজেট করা হয়েছে।

দপ্তরের এক কর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থ দপ্তরের বিধিনিষেধের ফলে একলপ্তে কেনা যাচ্ছে না। সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার কথা রাজ্য সরকারকে বলা রয়েছে। টেন্ডারও করে রাখা হয়েছে। বিধিনিষেধ উঠলেই এগুলি কেনা হবে। উত্তরবঙ্গে কাজ করে যাওয়া বন দপ্তরের এক পদস্থ আমলা জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে চোরাশিকারিরা ভিনরাজ্য থেকে এসে এখানে অপারেশন চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের সঙ্গে যোগ থাকায় তাদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকছে। অত্যন্ত দামি গাড়ি ব্যবহার করছে তারা। এদের মোকাবিলা করতে হলে শুধু অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গাড়ি থাকলেই হবে না। যেহেতু স্থানীয় গরিব মানুষকে অর্থের টোপ দিয়ে এরা গাইড হিসাবে ব্যবহার করছে, তাই এদের মোকাবিলা করতে স্থানীয় মানুষকেই সোর্স হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।

এই চিন্তাভাবনা থেকেই প্রতিটি জঙ্গলে সোর্স পার্সন নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের হাতে অ্যানড্রয়েড ফোন দেওয়া হবে। তাঁদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ থাকবে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের। একেক এলাকায় সোর্সরা শুধু তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকজন আধিকারিককেই খবর পাঠাবেন। তাঁদের পরিচয় কেউ জানবেন না।

বন দপ্তর জানিয়েছে, সবমিলিয়ে প্রথম পর্যায়ে ৬০ থেকে ৬৫ জন সোর্স নিয়োগ করা হচ্ছে। পুজোর পরেই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বনের ভিতর সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে, কিছু পাচার হওয়ার খবর থাকলে বা গাছ কাটা হলেও সেই খবর চলে যাবে নির্দিষ্ট আধিকারিকের কাছে। স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এবার পাচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে চাইছে বন দপ্তর।