কোচবিহারে সিআরপিএফ-এর গুলি, সংঘর্ষে মৃত ৫

121

কোচবিহার ব্যুরো: চতুর্থ দফার ভোটে রণক্ষেত্র কোচবিহার। আধাসেনার গুলিতে ৪ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের মৃত্যু হল মাথাভাঙ্গার জোটপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫/১২৬ নম্বর বুথে। শীতলকুচিতে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন আরও এক বিজেপি সমর্থক। ঘটনার পরই কলকাতায় তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক ডাকে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব। সেখানে জানানো হয়, শীতলকুচির ওই বুথে বিজেপি ভোটদানে বাধা দিচ্ছিল। সিআরপিএফ ভোটারদের প্রভাবিত করছিল। এতে সামান্য বচসা হতেই আচমকা সিআরপিএফ লাঠিচার্জ করে ও গুলি চালায়। তাতে তৃণমূল সংর্থক চার জনের মৃত্যু হয়।

শুক্রবার রাতভর বোমাবাজির পর এদিন সকাল থেকে অশান্তি হয়েছে দিনহাটাতেও। এখানে তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ গাড়ি ভাঙচুর হয়। সিতাইয়ে বোমাবাজির পর সকালে এক ব্যক্তির দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে তা রাজনৈতিক মৃত্যু কিনা, তা নিশ্চিত নয়।

- Advertisement -

শনিবার সকালে শীতলকুচি বিধানসভার পাগলাপীরে বুথের সামনে আচমকাই গুলি চলে। ঘটনায় মৃত্যু হয় আনন্দ বর্মন নামে এক বিজেপি সমর্থকের৷ তার রেশ কাটতে না কাটতেই শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫/১২৬ নম্বর মাদ্রাসা বুথে গুলি চলে। ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়৷ মৃতরা প্রত্যেকেই দলীয় কর্মী বলে দাবি তৃণমূলের। মৃতরা হামিদুল মিয়া, সামিউল হক, মনিরুল হক এবং আমজাদ হোসেন। সূত্রের খবর, বুথে ঢুকে ভাংচুর সহ ভোটকর্মীদের মারধর এবং ওয়েব ক্যামেরা ভাংচুরের ঘটনার জেরে গুলি চলানো হয়৷ যদিও তৃণমূলের তরফে ভাংচুর এবং মারধরের ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আলিজার রহমান অভিযোগ করেন, ‘ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের উপর বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ এবং গুলি চালিয়েছে কেন্দ্র বাহিনী।’ এদিকে গুলি কাণ্ডে চারজনের মৃত্যুর পাশাপাশি একাধিক জখম হওয়ার খবর সামনে এসেছে।

এদিকে ঘটনার জেরে জোরপাটকি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সকাল ১০টা’র পর থেকে ভোট গ্রহণ বন্ধ সেখানে। গোটা এলাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার মুড়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে মাথাভাঙ্গা থানার আইসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

শীতলকুচিতে এদিন সকালে সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি সহ চারজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় কোচবিহার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।