ভুয়ো তথ্য দিয়ে প্রার্থীর মনোনয়ন, সরগরম রাজনৈতিক মহল

106

কালচিনি: তপশিলি উপজাতির ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করে বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠল লোক জনশক্তি পার্টির এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই প্রার্থী নিজেকে মেচ-বরো সম্প্রদায়ভুক্ত দাবি করে ভুয়ো সংশাপত্র তৈরি করেন। শুধু তাই নয় অভিযোগ, একই জেলার পৃথক দুটি গ্রামে তাঁর নাম রয়েছে ভোটার তালিকায়। হ্যামিল্টনগঞ্জের লতাবাড়ি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের নেতাজি পল্লি এলাকায় ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে চঞ্চল দাস। অন্যদিকে, মেন্দাবাড়ি গ্রামের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে চঞ্চল নার্জিনারি। সম্পূর্ণ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। অন্যদিকে, ওই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। যদিও কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এখন আর প্রার্থী পদ বাতিল করা যাবে না।

জানা গিয়েছে, চঞ্চলবাবু পেশায় মৃৎ শিল্পী। পাশাপাশি হ্যামিল্টনগঞ্জের নেতাজি পল্লি এলাকায় একটি মন্দিরে পৌরহিত্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, জন্ম সূত্রে মেচ-বোরো সম্প্রদায়ের নন। তবে, ছোটবেলা থেকেই মেচ জনগোষ্ঠীর এক ব্যক্তি তাঁর লালন পালন করায় নার্জিনারি পদবি ব্যবহার করছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তপশিলি উপজাতি জনগোষ্ঠীর জনাকয় ব্যক্তি।

- Advertisement -

চঞ্চলবাবুর পালক পিতা দুলাল নার্জিনারি বলেন, ‘চঞ্চলের বয়স যখন দশ বছর ছিল তখন ওকে ভালো লাগে। ওর বাবা-মা’কে বলে লালন-পালনের দায়িত্ব নেই। সেই থেকে চঞ্চল আমার পিতৃ পরিচয়েই বড় হয়েছে। এত সমস্যা হবে জানলে আগেই আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে ওকে দত্তক নিতাম।’

বোরো সাহিত্য সভার রাজ্য সম্পাদক বিদেশ সুবা বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এভাবে নিজের জন্ম পরিচয় গোপন করে প্রার্থী হওয়া ঠিক নয়।’ বিজেপির ৯ নম্বর মন্ডল কমিটির সম্পাদক রুদ্র মন্ডল ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে এই ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।

সামগ্রিক ঘটনা প্রসঙ্গে ব্লক প্রশাসনের কোনও আধিকারিক মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, এডিএম ইন্দ্রজিৎ তালুকদারকে ফোন করা হলে তিনিও কার্যত এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে রিটার্নিং অফিসার শ্রদ্ধা সুব্বা বলেন, ’অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু মনোনয়নপত্র তুলে নেওয়ার সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় ওই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা যাবে না। তবে পরবর্তীতে যদি ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয় সেটি জেলা ও ব্লক প্রশাসন করতে পারবে।’