অধিকার আদায়ে প্রথম ভোট দেবেন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার পবিত্র

90

রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ: লক্ষ্য অধিকার আদায়। সেই লক্ষ্যেমোখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের একমাত্র তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হিসেবে ভোট দিতে চান পবিত্র দাস। এবছরই প্রথমবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজ্যে তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন বোর্ড রয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। তবুও নিজেদের অধিকার আদায়ে তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয়ে এবারই প্রথম ভোট দেব। এবিষয়ে মেখলিগঞ্জের বিডিও অরুণ কুমার সামন্ত জানিয়েছেন, পবিত্র দাস মেখলিগঞ্জ বিধানসভা ক্ষেত্রের একমাত্র ভোটার যিনি পুরুষ ও মহিলাদের বাইরে অন্য পরিচয়ে ভোট দেবেন।

নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রকাশ তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে, বর্তমান সময়ে রাজ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হিসেবে সর্বমোট ১৫৯০ জন তালিকাভুক্ত রয়েছেন। কোচবিহার জেলার ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটা মাত্র ১৮। অপরদিকে, মেখলিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্য়া মাত্র ১ জন। যদিও এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃতীয় লিঙ্গের বহু মানুষ রয়েছেন। সেই সংখ্যাটা কম করে হাজার বলেই দাবি পবিত্রের। তাঁর কথায়, পুরুষ ও মহিলাদের পাশাপাশি রূপান্তরকামী কিংবা কিন্নর গোষ্ঠীর মানুষেরাও স্বপরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান। তবে ভোটার তালিকায় তাঁদের ঠাই মেলেনি। সেক্ষেত্রে পবিত্র দাবি করেন, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার পদ্ধতি যথেষ্ট জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ফলত ইচ্ছে থাকলেও অনেকেই ভোটার তালিকায় নাম তুলে উঠতে সক্ষম হন না। সেক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম শিথিল করার দাবি তুলে ধরেছেন তিনি।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকরি গ্রামের বাসিন্দা পবিত্র দাস। এবছরই তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। স্ব-চিত্র পরিচয় পত্র পেয়ে বেজায় খুশি তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আমার মতোন বাকিদের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হলে বেশ ভালো লাগত। এবিষয়ে পবিত্র দাস বলেন, ‘আমাদের কথা সেভাবে কেউই ভাবে না। না শাসক না বিরোধী। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে চলতে হয়। অনেক লড়াইয়ের পর তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি পেয়েছি। আমার মতো অনেকেই ভোটার তালিকায় নিজেদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে দেখতে চান। কিন্তু নিয়মের কড়াকড়ির জন্য সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার রূপান্তরকামীরা।’