লকডাউনে কোটায় আটকে পড়া পড়ুয়াদের বাংলায় ফেরাচ্ছে রাজ্য সরকার

352

ওয়েব ডেস্ক: আইআইটি এবং জেই অ্যাডভান্সের প্রস্তুতি নিতে যাওয়া রাজস্থানে আটকে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার৷ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কাতর আবেদনের পরেই তাদের এই রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করল সরকার৷ খোদ মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইট করে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া ছাত্রছাত্রীদে ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন৷

লকডাউনের জেরে বাংলার মেধাবী ছাত্র সঞ্জু সন্ন্যাসী বা অংশুপ্রিয়া ব্যানার্জিদের করুণ অবস্থা হয়েছিল৷ আইআইটি বা জেই অ্যাডভান্সের প্রস্তুতি নিতে তারা রাজস্থানের কোটায় গিয়ে আটকে পড়েছিলেন। শুধু এই দুজন নয়, রাজ্যের কয়েক হাজার মেধাবী ছাত্রছাত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছিলেন৷ অন্যান্য রাজ্য সরকার যখন বাস পাঠিয়ে তাদের রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করেও এ রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা প্রথমে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘ভিনরাজ্যে আটকে থাকা পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারণ তার জন্য ৩০০ বাস লাগবে। রাজস্থান থেকে ওই পড়ুয়াদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে রাস্তায় তিন রাত থাকার ব্যবস্থা করতে হবে ৷ তবে, কেউ তার সমস্যার কথা জানালে রাজ্য সরকার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’ মুখ্যসচিব ওই পড়ুয়াদের আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরে কোটায় থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

- Advertisement -

রাজ্য সরকারের অবস্থান জানার পর কোটায় আটকে পড়া ওই পড়ুয়াদের বাবা-মায়েরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। একে তো তাদের অন্য রাজ্যের সহপাঠীরা বাড়ি ফিরে গিয়েছে। বিশাল হস্টেল বা মেসে দু-একটি ঘরে একা কাটাচ্ছিল ওই ছাত্রছাত্রীরা। হস্টেলের কর্মীদের অনেকে বাড়ি চলে গিয়েছে। কোনও মতে ডাল-ভাত জুটছিল তাদের৷ ভিডিও পাঠিয়ে এক পড়ুয়া জানিয়েছিলেন, ডালের নামে প্রায় গরম জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে তাদের পাতে। বাইরে থেকে খাবার আনালেও তা কতটা নিরাপদ তা বুঝতে পারছে না তারা। ফলে করোনা নিয়ে তারা যতটা আতঙ্কিত তার থেকেও বেশি মানসিকভাবে বিধস্ত।

গত ১৭ এপ্রিল ২৫০টা বাস পাঠিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকার কোটা থেকে তাদের রাজ্যের ৭০০০ ছাত্রছাত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। একই পদক্ষেপ করেছে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন। আর এ রাজ্যের ছবিটা সেই জায়গায় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল৷ যেমন, উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষনেতা তথা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেছেন, ‘কোটায় যারা প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছে তাদের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। অনেকে টেলিফোনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। শিক্ষাসচিবের সঙ্গে মুখ্যসচিবের কথা হয়েছে। বাংলার আড়াই হাজার পড়ুয়াকে কোটা থেকে ফিরিয়ে আনতে ৩০০ বাস লাগবে। এই মুহূর্তে এত বাস জোগাড় করা সম্ভব নয়। লকডাউন ওঠার পর ট্রেন বা অন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলেই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’

ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি ফেরার কাতর আবেদনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন৷ বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরেও যায়৷ তারপরেই তাদের ফেরত আনার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইট করে জানিয়েছেন,… আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সকলের সম্ভাব্য সহায়তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব যাতে যথাসম্ভব সাহায্য আমরা করতে পারি৷ আমাদের সরকার ইতিমধ্যেই তৎপরতার সাথে কাজ শুরু করেছে এবং কোটাতে আটকে থাকা বাংলার প্রতিটি শিক্ষার্থীকে শীঘ্রই বাড়ি ফিরে আসার জন্য রওনা দিতে চলেছে৷’’
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই আশ্বাস পেয়েই স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে কোটায় আটকে পড়া ছাত্রছাত্রীদের৷ তাদের অভিভাবকদেরও উদ্বেগ দূর হয়েছে৷