আলিপুরদুয়ার : শহরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড সমস্যার সমাধান না হওয়ায় পোয়াবারো হয়েছে জমি মাফিয়াদের। শহরে জমে থাকা আবর্জনা দিয়ে একের পর এক পুকুর, ঝিল, জলাভূমি ভরাট হয়েছে। পুরবোর্ড মুখ না খোলায় ভরাট হওয়া জলাভূমি মোটা টাকায় হাত বদল হয়ে অবৈধ নির্মাণ গড়ে উঠছে। সম্প্রতি আলিপুরদুয়ার শহরের জলাভূমির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের যে রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কাছে জমা পড়েছে, তাতে এই বিষয়টি সামনে এসেছে। এখনও যে আলিপুরদুয়ার শহরে একাধিক জলাভূমি আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে তা রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক দীপঙ্কর পিপলাই।

গত মঙ্গলবার ডুয়ার্সকন্যায় বিএলআরওদের নিয়ে এক বৈঠকে আলিপুরদুয়ারের জলাভূমিগুলির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, আলিপুরদুয়ার শহরে বিভিন্ন ঝিল, পুকুর, জলাভূমির যতগুলি তালিকা আমাদের কাছে ছিল তার বর্তমান পরিস্থিতির একটা রিপোর্ট পেয়েছি। এই রিপোর্ট অনুসারে বেশ কয়েকটি জলাভূমিতে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এভাবে আবর্জনা ফেলা হলে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমানে পুরসভার প্রশাসক মহকুমাশাসক। তাঁকেও বিষয়টি জানানো হবে। আলিপুরদুয়ার শহরে আবর্জনা দিয়ে জলাভূমি ভরাট হচ্ছে জেলা প্রশাসনের তরফে এমন তথ্য সামনে আসার পর এনিয়ে শহরের বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জলাশয় বাঁচাও কমিটির অভিযোগ, ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকার ফায়দা লুটছে এক শ্রেণির জমি মাফিয়া। বারবার এনিয়ে স্থানীয় পুরসভা থেকে প্রশাসনকে জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি। বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহরের জলাভূমি ভরাট এবং ডাম্পিং গ্রাউন্ড সমস্যা সমাধান না হওয়ার পিছনে অনেক বড়ো খেলা চলছে। এই খেলায় জমি মাফিয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় পুরসভা, প্রশাসন, ভূমিসংস্কার দপ্তরের একাংশ জড়িত। তাঁর অভিযোগ, কোটি টাকা দিয়ে বছরের পর বছর ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য জমি কিনে ফেলে রাখা হলেও সেখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড হয়নি। কারণ এর পেছনে জমি মাফিয়াদের মদত আছে।

- Advertisement -

শহরের বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, শহরের আবর্জনা বিভিন্ন জায়গায় জমা করা থাকে। এই আবর্জনা সাফাইয়ের নামে প্রথমে তা বিভিন্ন জলাভূমির কাছে ফেলা হয়। তারপর জমি মাফিয়াদের ঠিক করা লোকজন রাতের অন্ধকারে ওই সমস্ত আবর্জনা জলাভূমিতে ফেলতে শুরু করে। এভাবে লাগাতার বেশ কিছুদিন জলাভূমিতে আবর্জনা ফেলতে পারলেই সেখানকার একটা বড়ো অংশ ভরাট হয়ে যায়।