মারাদোনার মৃত্যুতেও নিরুত্তাপ ছিলেন চিকিৎসকরা

বুয়েনেস আয়ার্স : দিয়েগো মারাদোনার মৃত্যু নিয়ে নিত্যনতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসায় বিরাম নেই।
এবার তাঁর চিকিৎসকদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথাবার্তা প্রকাশ করেছে একটি সংবাদমাধ্যম। সেখানে তাঁর নিউরোসার্জন লিওপোল্ডো লুকের সঙ্গে মনোবিদ অগুস্তিনা কাসোচভের হওয়া কথা থেকে স্পষ্ট, মারাদোনার মৃত্যু নিয়ে তাঁরা বেশ নিস্পৃহ ছিলেন। আর্জেন্টাইন মহাতারকার মৃত্যুতে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করে পুলিশ তদন্ত করছে। তারই অঙ্গ হিসেবে ওই দুই চিকিৎসকের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়।

 

- Advertisement -

প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, ২৫ নভেম্বর মারাদোনার মৃত্যুর সময় চিকিৎসকদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে টানা টেক্সট ও অডিও মেসেজ চালাচালি হয়েছে। ওইদিন মারাদোনাকে দেখতে কাসোচভ এবং সাইকোলজিস্ট কার্লোস ডিয়াজ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁরা লুককে মারাদোনার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার কথা জানিয়ে সেখানে যেতে অনুরোধ করেন।

এরপরেই মারাদোনার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন লুক। সেসময় নিজের পার্টনারকে পাঠানো এক বার্তায তিনি লিখেছেন, আমি এখন হাইওয়েতে রয়েছি। মনে হচ্ছে তিনি মারা গিয়েছেন। এটা পোস্ট করে দাও। আমার মনে হয় তোমারও এখানে আসা উচিত। ওই রাস্তা ধরে সোজা চলে এস। আমি তোমাকে বাড়ির অবস্থান জানিযে দিচ্ছি। ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, হিসেব করে দেখা গিয়েছে লুকের ওই বার্তার পরপরই মারাদোনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

লুকের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে জানা গিয়েছে, সেসময় কেউ একজন টিভি স্ক্রিনের ছবি তুলে মারাদোনার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন করেন। যার জবাবে লুক জানান, মনে হচ্ছে তিনি হৃদরোগে মারা গিয়েছেন। তবে এখনও জানি না ঠিক কী হয়েছে। আমি এখন সেখানে যাচ্ছি।

এই সময়ে কোসাচেভও বিভিন্ন তথ্য লুককে জানিয়েঠেন। এক বার্তায় তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্স টিম এসেছে। ওরা এখন তাঁর শ্বাস চালুর চেষ্টা করছে। তবে অ্যাম্বুল্যান্স আসতে দেরি হওয়ায় ১০-১৫ মিনিট আমরা সেটা চেষ্টা করেছি। অন্য একটি অডিওয় তিনি বলেছেন, আমরা গিয়ে দেখি তাঁর ঘরটি একেবারেই ঠাণ্ডা হয়ে রয়েছে। আমরা বিষয়টি দেখে তৎপর হওয়ার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। তাঁর শরীরের তাপমাত্রাও কিছুটা বাড়ে। এরপর মিনিট দশেক আমরা তাঁকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করি। তারপেরই অ্যাম্বুল্যান্স আসে। ওরা (অ্যাম্বুল্যান্স টিম) এখন কাজ করছে। ওরা আমাদের কিছুই বলছে না। আমি এখন বাইরে চলে এসেছি।

মারাদোনার মৃত্যু নিয়ে তাঁর পরিবারের একাংশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সত্যিই কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।