কোভ্যাক্সিনের চার কোটি ডোজ কোথায়? তোলপাড় দেশ

151

নয়াদিল্লি: করোনা সংক্রমণ রুখতে টিকাকরণ জরুরি। একথা বারবার বিশেষজ্ঞদের মুখে শোনা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত দেশে ২০ কোটি ৫৭ লক্ষ ২০ হাজার ৬৬০ জন টিকা নিয়েছেন। তবে তা দেশের জনসংখ্যার তুলনায় অনেকটাই কম। মাঝপথেই অনেক জায়গায় থমকে গিয়েছে টিকাকরণ। কোথাও প্রথম ডোজ, তো আবার কোথাও দ্বিতীয় ডোজ অমিল। সাফাই হিসেবে বেশ কয়েকটি রাজ্যকে কাঠগড়ায় তুলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি প্রচুর সংখ্যক ভ্যাকসিনের ডোজ নষ্ট করেছে।

দেশে মূলত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় তৈরি সেরামের কোভিশিল্ড ও দেশীয় সংস্থা ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিনের জোগান অনেকটাই কম বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের।

- Advertisement -

এরই মাঝে একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ভারত বায়োটেক ৬ কোটি কোভ্যাক্সিন প্রস্তুত করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২.১ কোটি কোভ্যাক্সিন দেশের মানুষকে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, আর ৪ কোটি ভ্যাকিসিন কোথায় গেল। এবিষয়ে ভারত বায়োটেকের তরফে জানানো হয়েছে, উৎপাদন থেকে টিকাকরণের জন্য ভ্যাকসিন প্রস্তুত করতে ১২০দিন সময় লাগে। অর্থাৎ যে ভ্যাকসিন মার্চে উৎপাদন হয়েছে, তা সাধারণ মানুষ পাবে জুন মাস নাগাদ।

ভারত বায়োটেকের তরফে ২০ এপ্রিল জানানো হয়েছিল, মার্চে ১.৫ কোটি ডোজ কোভ্যাক্সিন উৎপাদন হয়েছে। এপ্রিলে উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ডোজ। সংস্থার সিএমডি কৃষ্ণা এল্লা জানিয়েছিলেন, মে মাসে ভ্যাকসিনের উৎপাদন ৩ কোটিতে পৌঁছে যাবে। সেই হিসেবে ওই তিনমাসে কোভ্যাক্সিনের মোট ডোজের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৬.৫ কোটি। দেশে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরুর আগে ৫ জানুয়ারি এল্লা জানিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে ২ কোটি কোভ্যাক্সিন মজুত আছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে কোভ্যাক্সিনের উৎপাদন কম ছিল। তাই ধরে নেওয়া যায় মজুত থাকা ভ্যাকসিন ও পরবর্তীতে কয়েকমাসে উৎপাদিত ভ্যাকসিনের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ডোজ।

সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারও ২৪ মে হাইকোর্টে একটি হলফনামায় জানিয়েছিল, প্রতি মাসে গড়ে ২ কোটি কোভ্যাক্সিন উৎপাদন হচ্ছে। সেই হিসেবে গত তিনমাসে ৬ কোটি কোভ্যাক্সিন উৎপাদন হওয়ার কথা। কিন্তু সেই ভ্যাকসিনের মাত্র ২.১ কোটি ডোজ দেশে দেওয়া হয়েছে। রপ্তানি করা হয়েছে ৬.৬ কোটি ডোজ। এর মধ্যে বেশিরভাগই কোভিশিল্ড। যদি ২ কোটি কোভ্যাক্সিন রপ্তানি করা হয়ে থাকে তাহলেও ৪ কোটি কোভ্যাক্সিনের ডোজ কোথায়, সেটাই বড় প্রশ্ন। তবে এবিষয়ে কেন্দ্রের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।