করোনার উৎস ইউরোপীয় বা ভারতীয় উপমহাদেশ, দাবি চিনের

579

বেজিং: প্রায় বছর পেরোতে চলল নোভেল করোনা ভাইরাস। গোটা ভারতে বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৯১। গত বছর এই নভেম্বর মাসেই চিনের উহান শহরেই প্রথম ধরা পড়ে নোভেল করোনা ভাইরাস। তারপর থেকে এক বছরে ছ’কোটির উপরে সংক্রমণ। সাড়ে ১৪ লক্ষ মৃত্যু। মারণ সংক্রমণের জন্য বারবার কাঠগড়ায় উঠতে হয়েছে ড্রাগনের দেশকে।

কখনও ‘চিনা ভাইরাস’, কখনও ‘চিনা ফ্লু’ নাম দিয়ে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে সেই চিনকেই। এবার তাঁরা প্রমাণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, করোনা ভাইরাসের উৎস আদতেও চিন নয়। চিনের আগেই অন্য কোনও দেশ থেকে ছড়িয়েছিল ভাইরাসটি।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ভাবে খবর করা শুরু করেছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। তাদের বক্তব্য, উহানের বাজারে মাংসের মধ্যে যে ভাইরাস পাওয়া গিয়েছিল, সেটাই উৎস নয়। গত বছর ডিসেম্বরের আগেই চিন সীমান্তের বাইরে ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল। চিনের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘পিপলস ডেলি’ গত সপ্তাহে একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করে, ‘যা যা তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, সেই সব থেকে স্পষ্ট, চিনের উহান থেকে কোনও মতেই সংক্রমণ শুরু হয়নি।’

চিনের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর প্রাক্তন প্রধান এপিডিমিয়োলজিস্ট জ়েং গুয়াং বলেন, ‘উহানে প্রথম ভাইরাসটি চিহ্নিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা বলে উহান এই ভাইরাসের উৎস নয়।’

চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রও বলেন, ‘ভাইরাসটি কোথায় প্রথম চিহ্নিত হয়েছে, আর ভাইরাসটি কোথায় প্রথম অন্য প্রাণীর দেহ থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়েছে, দু’টো বিষয় যে আলাদা, সেটা স্পষ্ট হওয়া দরকার। চিনে প্রথম চিহ্নিত হয়েছে মানেই যে চিন এর উৎস, তা নয়। উৎস কোথায় সেটা খুঁজে দেখতে হবে। হয়তো একাধিক দেশ, একাধিক অঞ্চল এর উৎস।’

এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্রও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল ‘ল্যানসেট’-এ জমা দিয়েছে চিন। এখনও অবশ্য রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়নি। রিপোর্টের সারমর্ম এই যে— ‘মানুষ থেকে মানুষের দেহে সার্স-কোভ-২ সংক্রমণ উহানে প্রথম হয়নি।’ রিপোর্টে এ-ও দাবি করা হয়েছে, প্রথম সংক্রমণ হয়তো ভারতীয় উপমহাদেশে হয়েছে।

চিনের অন্যের ঘাড়ে দায় ঠেলা শুরু ভারতকে দিয়ে নয়। এর আগে তারা দাবি করেছিল, ইউরোপে প্রথম ছড়িয়েছিল ভাইরাস। সেখান থেকে ভাইরাসটি চিনে আসে। চিনের এ ধরনের দাবি নস্যাৎ করে দিচ্ছেন আমেরিকা-ইউরোপের বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র ‘জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ বিষয়ক বিভাগের ডিরেক্টর মাইক রায়ান গত সপ্তাহেই জানিয়েছেন, চিন এ রোগের উৎস নয়, এমন অনুমান একেবারেই ‘ভিত্তিহীন’।

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কোভিডকে দূর করতে, কোথায় এর উৎস, সেটা জানা জরুরি। যাতে পরবর্তী অতিমারি আটকানো যায়, তার জন্যেও বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পশ্চিমি বিশেষজ্ঞদের দাবি, চিন এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নয়। বরং কার ঘাড়ে দোষ চাপানো যায়! এই নিয়েই বড্ড মাতামাতি।