যতদিন সম্ভব লকডাউন চালিয়ে যাওয়ার আবেদন হু-র

400
ফাইল ছবি

ওয়াশিংটন : দেশে দেশে লকডাউন শিথিল করার হিড়িক চলছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যেও উদাসীনতা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি গোটা বিশ্বকে ভয়ংকর বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছে হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আদানম বলেন, আমরা এক ভয়ংকর বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। অনেকে ঘরে থাকতে বিরক্তবোধ করছেন। তবে ভুললে চলবে না, সংক্রমণ কিন্তু এখনও দ্রুত ছড়াচ্ছে। এর আগেও লকডাউন শিথিল করা নিয়ে একাধিকবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল হু। তাদের মতে, অর্থনীতির দোহাই দিয়ে লকডাউন শিথিল করায় সব দেশেই মানুষের মধ্যে উদাসীনতা বাড়ছে। রাস্তাঘাটে ভিড় জমছে। এতে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আদানম বলেন, এখনও পর্যন্ত করোনার ভ্যাকসিন বা কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। এই ভাইরাস খুব দ্রুত একজন থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করে। একমাত্র সোশ্যাল ডিসটেন্সিংয়ে মাধ্যমে কোভিড-১৯-এর শৃঙ্খলকে ভাঙা সম্ভব। কিন্তু লকডাউন শিথিল হওয়ায় করোনা-শৃঙ্খলকে ভাঙা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে যত বেশিদিন সম্ভব লকডাউন চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছে হু। এদিকে শনিবার বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসেবে সংখ্যাটা ৪,৬৩,১৯৪। সংক্রামিত হয়েছেন প্রায় ৮৯ লক্ষ মানুষ। অ্যাক্টিভ করোনা পজিটিভের সংখ্যা ৩৭ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে। এঁদের মধ্যে ৫৫ হাজার সংক্রামিতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

- Advertisement -

আমেরিকায় ২২,৯৭,৬৪২ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন ১,২১,৪১৪ জন। সেখানে  সংক্রামিতের হার সামান্য কমেছে। ব্রাজিলে অবশ্য সংক্রমণ দুর্বার গতিতে ছড়াচ্ছে। শনিবার পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার দেশটিতে অ্যাক্টিভ পজিটিভের সংখ্যা ১,০৩,৮৫৬৮। সেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়াতে নতুন করে প্রায় ৯ হাজার জন সংক্রামিত হয়েছেন। ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে সংক্রামিতের সংখ্যা ৫,৭৬,৯৫২। করোনা সংক্রমণে দেশগুলির মধ্যে চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতে সংক্রামিত ও প্রাণহানির সংখ্যা যথাক্রমে ৩,৯৫,০৪৮ এবং ১২,৯৪৮। কানাডা (১,০০,৬২৯), বাংলাদেশ (১,০৮,৭৭৫) ও চিনের (৮৫,৪৬২) চেয়ে বেশি মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়েছে মহারাষ্ট্রে (১,২৪,৩৩১)।

অন্যদিকে, করোনার সেকেন্ড ওয়েভের ধাক্কা সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে চিন। এদিনও রাজধানী বেজিংয়ে ৩৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে গত একমাসে চিনে নতুন করে কোনও প্রাণহানির খবর নেই। পাকিস্তানে সংক্রমণ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে ১,৭১,৬৬৬ জন সংক্রামিত হয়েছেন। আফগানিস্তানে সংক্রামিত ২৮,৪২৪ জন। এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় সংক্রমণের তীব্রতা বাড়লেও ইউরোপে কিছুটা কমেছে। রাশিয়া বাদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় সবকটি দেশে নতুন করে সংক্রামিতের সংখ্যা কমেছে। জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও সংক্রমণে রাশ টানতে পেরেছে। সংক্রামিতের সংখ্যা এক লক্ষের বেশি বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা ১৮টি। এছাড়া ১৯টি দেশে ৩০ হাজার থেকে এক লক্ষের কম মানুষ সংক্রামিত হয়েছেন।