করোনার সব রোগী কেন শিলিগুড়িতে, উঠছে প্রশ্ন

898

শিলিগুড়ি ও মালদা : প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে কোভিড-১৯ হাসপাতাল এবং একটি করে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস (সারি) হাসপাতাল তৈরির নির্দেশ থাকলেও কেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীদের শিলিগুড়িতে পাঠানো হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মালদা থেকে কোচবিহার- সব জেলার করোনা আক্রান্তদের কয়েকশো কিলোমিটার পথ পার করে চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ির হিমাঞ্চল বিহারের কোভিড হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। একইভাবে করোনার উপসর্গ নিয়ে যাঁরা বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে যাচ্ছেন তাঁদেরও শিলিগুড়িতে অর্থাৎ এখানকার কাওয়াখালির সারি হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, শিলিগুড়িতে গোটা উত্তরবঙ্গের করোনা আক্রান্তদের এনে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে বলেই কি এই জেলা রেড জোন-এ চলে এসেছে?

করোনা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রথম দিকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেই করোনা সংক্রামিত এবং এর উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের শারীরিক অবস্থা বুঝে আইসোলেশন এবং রেসপিরেটরি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (রিকু) রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসার জন্য হিমাঞ্চল বিহারে বেসরকারি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল অধিগ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের রেখে চিকিৎসার জন্য কাওয়াখালির একটি বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ করে স্বাস্থ্য দপ্তর। এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হিমাঞ্চল বিহারে কোভিড হাসপাতাল চালু করা হয়। এখনও পর্যন্ত সেখানে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুই নার্স, চিকিৎসক ছাড়াও কালিম্পং, জলপাইগুড়ি জেলার (শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড) পাশাপাশি মালদা,  আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের রোগীরও চিকিৎসা হয়েছে অথবা এখনও চিকিৎসা চলছে। এমনকি ধূপগুড়িতে ধৃত তামিলনাড়ুর এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককেও এখানে চিকিৎসার জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কাওয়াখালির সারি হাসপাতালেও করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। মেডিকেল সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের যে কোনও জেলায় জ্বর, সর্দিকাশি বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে কোনও রোগী চিকিৎসার জন্য এলেই তাঁদের করোনা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং শিলিগুড়ির সারি হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত সারি হাসপাতালে যাঁদের চিকিৎসা হয়েছে বা যাঁরা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁদের মধ্যে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিহার, অসম এমনকি জম্মু-কাশ্মীরের রোগীও রয়েছেন। ফলে উত্তরবঙ্গের করোনার চিকিৎসার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে শিলিগুড়ি। শনিবার বিকেল পর্যন্ত হিমাঞ্চল বিহারের কোভিড হাসপাতালে মোট ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে সারি হাসপাতাল চালুর দিন থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত রোগী এসেছেন ৮৫ জন। ১৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে সারি হাসপাতাল এবং একটি করে কোভিড হাসপাতাল তৈরি করার কথা। সেই মতো প্রত্যেকটি জেলায় জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তার পরেও কেন সব জেলা থেকে শিলিগুড়িতে রোগী পাঠানো হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। দার্জিলিং জেলা দুদিন আগে পর্যন্ত অরেঞ্জ জোনে থাকলেও শুক্রবার থেকে রেড জোনে চলে গিয়েছে। এখানে ১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন থাকার ঘটনা এই জেলাকে রেড জোনে ঠেলে দিয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ওল্ড মালদায় একটি কোভিড হাসপাতাল তৈরি করা হলেও এই জেলার রোগীদের কেন ৩০০ কিলোমিটার দূরে শিলিগুড়িতে পাঠানো হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। মালদার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী বলেন, মুখ্যসচিবের নির্দেশেই দুই করোনা রোগীকে শিলিগুড়ির কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কেন শিলিগুড়িতে রোগীদের পাঠানো হচ্ছে এব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ওল্ড মালদার হাসপাতালে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার পরিকাঠামো রয়েছে। জেলায় এখনও পর্যন্ত মাত্র দুজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তাঁদের শিলিগুড়িতে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখানেও চিকিৎসার জন্য মালদার হাসপাতাল তৈরি রাখা হয়েছে।