শুভেন্দু-মুকুলকে গ্রেপ্তার নয় কেন, প্রশ্ন ম্যাথুর

124

নয়াদিল্লি ও কলকাতা: নারদ কেলেঙ্কারিতে সোমবার সাতসকালে রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূল নেতা মদন মিত্র এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপ ঘিরে টানটান উত্তেজনা শুরু হয়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে।

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, নারদ কেলেঙ্কারিতে নাম থাকা সত্ত্বেও বিজেপিতে থাকার কারণে রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং মুকুল রায়কে গ্রেপ্তারির পথে হাঁটেনি সিবিআই। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে পরাজিত হয়েছে বলেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইছে মোদি সরকার। বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও যিনি নারদ স্টিং অপারেশনটি করেছিলেন সেই ম্যাথু স্যামুয়েলও একই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সোমবার যে গ্রেপ্তারি হয়েছে তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। তিনি নিজে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে দেখা করেছিলেন। শুভেন্দু তাঁর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন।

- Advertisement -

ম্যাথু জানিয়েছেন, মুকুল রায়ের সঙ্গেও তিনি দেখা করেছিলেন। মুকুল নিজে সরাসরি টাকা না নিলেও সাসপেন্ডেড আইপিএস মির্জাকে তা দিতে বলেছিলেন। নারদ কর্তার সাফ কথা, মুকুল, শুভেন্দুর বিরুদ্ধেও তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তাহলে ওঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন! এক ভিডিও বার্তায় ম্যাথু বলেন, ’আজ খুশির দিন। অনেকগুলি বছর পার হয়ে গেল। ২০১৬ সালে ওই স্টিং অপারেশনের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছিল। সিবিআই এতদিন এঁদের গ্রেপ্তার করতে পারছিল না। অথচ তিন বছর আগেই তাদের চার্জশিট তৈরি হয়ে গিয়েছিল।‘ ম্যাথু বলেন, ‘আমি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ওঁর দপ্তরে দেখা করেছিলাম। কিন্তু ওঁর নাম গ্রেপ্তারির তালিকায় নেই। এটা কী হল? আমি ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম শুভেন্দু অধিকারীকে। টাকা দেওয়ার ভিডিও টেপ সিবিআইয়ের কাছে জমা রয়েছে। তার ফরেন্সিক পরীক্ষাতেও কোনও গরমিল পাওয়া যায়নি।‘

ম্যাথুর দাবি, ‘আমি মুকুল রায়ে সঙ্গেও দেখা করেছিলাম। উনি নিজে কোনও টাকা নেননি ঠিকই। কিন্তু মির্জাকে টাকা দিতে বলেছিলেন। আমি মির্জাকে ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। মির্জা সিবিআই জেরাতে জানিয়েছিলেন, তিনি মুকুল রায়ের জন্যই টাকা নিয়েছিলেন। তাহলে সিবিআইয়ের চার্জশিটে শুভেন্দু অধিকারী এবং মুকুল রায়ের নাম নেই কেন! রাজ্যপাল সিবিআইকে যাঁদের গ্রেপ্তার করার অনুমতি দিয়েছেন তাতেও মুকুল-শুভেন্দুর নাম নেই। এটা আমার কাছে রহস্যজনক লাগছে। একই তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এভাবে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হবে আর বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হবে এমনটা মেনে নেওয়া যায় না।‘

মুকুল কিংবা শুভেন্দুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর চাপ এসেছিল কিনা জানতে চাওয়া হয় ম্যাথুর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘মুকুল-শুভেন্দুর বিরুদ্ধে যা যা বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ ছিল তা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছি। সিবিআই তা চ্যালেঞ্জ করেনি। আদালতে আমার বয়ানও নথিভুক্ত রয়েছে। মুকুল-শুভেন্দুর বিরুদ্ধে সিবিআই কী করেছে আর কী করেনি, তা জানতে চাওয়া উচিত আদালতের।‘