চরম অভাব, কচু শাক ও শুকনো মুড়িই ভরসা মা মেয়ের

378

সামসী: পরিবারে চরম অভাব। চাঁচল-২ ব্লকের ভাকরি জিপির রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা ভানু প্রামাণিক ও তাঁর মেয়ের দিন কাটছে কচুর শাক আর শুকনো মুড়ি খেয়ে। দিন কয়েক আগেই ভানু প্রামাণিকের স্বামী  দীপু প্রামানিক মারা গেছেন। পেশায় ক্ষৌরকার ছিলেন তিনি। লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল দাড়ি কেটে দিনের শেষে যা সামান্য আয় হতো, তা দিয়ে চলতো সংসার। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারে শুরু হয়েছে চরম অভাব অনটন। উপার্জনকারী বলতে কেউ আর নেই। স্ত্রী ভানুদেবী জানান, তিনি নিজেও পাঁচ বছর ধরে প্যারালিসিসে আক্রান্ত। তাঁর দুটি হাত অকেজো হয়ে পড়েছে। মেয়েই মূলত মায়ের মুখে খাবার তুলে দেয়। মেয়ে ইতি প্রামানিক বয়স মাত্র তেরো। নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে ভানু দেবীর এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। দুবেলা পেট পুরে খেতেও পাননা মা ও মেয়ে। বাড়ি বলতে এক চিলতে মাটির ভাঙা ঘর। জমি জায়গা বলতে কিছুই নেই। বর্ষাকালে ঘরের চাল দিয়ে জল পড়ে। বাড়িতে পানীয়জলের জন্য নলকূপ ও শৌচালয় কিছুই নেই। বিল দিতে না পারায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে অনেক দিন আগেই। রাতে কেরোসিনের কুপি জ্বালিয়ে কোনও রকমে পড়াশোনা করছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ে ইতি প্রামানিক। মৃত দীপু প্রমাণিকের ভাই জানান, বাড়িতে টিউবওয়েল না থাকায় পাড়াপড়শিরা জল খেতে দেননা তাদের। তাই বাধ্য হয়ে অনেক সময় পুকুরের জল খেতে হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সঞ্জয় মন্ডল জানিয়েছেন, দ্রুত বিডিওকে বলে বিধবা ভাতা চালু করে দেওয়া হবে মহিলার জন্য। চাঁচল-২ ব্লকের বিডিও দিব্যজোতি দাসও অসহায় পরিবারটিকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।