পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে খুনের অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

500

রায়গঞ্জ: পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় স্বামীকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে করণদিঘি থানার টুঙ্গীদীঘি এলাকার সাদিপুর গ্রামের ঘটনা। এদিন হাসপাতালের মর্গ ক্যাম্পাসে অভিযুক্ত স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর দেয় ছেলে। মার খেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত স্ত্রী। মৃতের ছেলে রাহুল মাহাতোর অভিযোগ, আমার বাবাকে বিষ খাইয়ে খুন করেছে আমার মা। মায়ের শাস্তির দাবি করছি।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কৃষ্ণদেব মাহাতো (৪৮) পেশায় সবজি বিক্রেতা। ১১ বছর ধরে পাঞ্জাবের ভাটিণ্ডা এলাকার বলরাজনগরে রাজমিস্ত্রির কাজে কর্মরত ছিল। লকডাউনের পর বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর স্বামী-স্ত্রী টুঙ্গীদীঘি বাজারে সবজির ব্যবসা করত। স্ত্রী রম্বা মাহাতো ও স্বামী কৃষ্ণদেব মাহাতো টুঙ্গীদীঘি সাদিপুরে থাকলেও দুই ছেলে থাকতো করণদিঘি এলাকার পৃথক বাড়িতে। রম্বা মাহাতোর সঙ্গে অন্য এক পুরুষের সম্পর্ক ছিল। তার প্রতিবাদ করেছিলেন কৃষ্ণদেব মাহাতো। এ কারণেই দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্বামীকে খুন করার চেষ্টা করে রম্বা। বিষের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেয় স্বামী কৃষ্ণদেব মাহাতো। এরপর তাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেডিসিন বিভাগে দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসার পর শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে। এদিন বিকেলে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। রায়গঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, করণদিঘি থানায় নিজের মায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ছেলে কানাইয়া মাহাতো। করণদিঘি থানার আইসি মলয় মজুমদার বলেন, “একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।” এদিকে শুক্রবার দুপুর ১ টা নাগাদ মেডিসিন বিভাগ থেকে মৃতদেহ নিয়ে আসতেই সেখানে হাজির হয় ছেলে এবং পরিজনেরা। তারা সেখানেই অভিযুক্ত মা রাম্বা মাহাতোকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। নিরাপত্তারক্ষীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর স্ত্রী রম্বা মাহাতো সেখান থেকে গাঢাকা দেয়। যদিও স্ত্রী রম্বা মাহাতোর বক্তব্য, “আমার স্বামীকে আমি বিষ খাইয়ে খুন করিনি। আমাকে আমার ছেলেরা সম্পত্তির জন্য খুনি সাজিয়েছে।”