ভোটের সময় অভিজিৎ নেই, স্মৃতি আঁকড়ে পারমিতা

132

সানি সরকার, শিলিগুড়ি: মিছিলের আওয়াজে ব্যালকনিতে ছুটে এসেছিলেন। কিন্তু ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। ভোট আছে, কিন্তু অভিজিৎ নেই ভাবতে পারছেন না পারমিতা রায়চৌধুরী। তাঁর অভিব্যক্তি, সবটাই শূন্যতা। ভোটের সময় যে ছেলেটা নাওয়া-খাওয়া ভুলে, পরিবার থেকে দূরে থাকাটাকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন, সেই অভিজিৎ রায়চৌধুরী এবারের বিধানসভা ভোটে নেই তা ভাবতেই পারছেন না তাঁর স্ত্রী পারমিতা। তাই বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল গেলে বা ভোট প্রচারের মাইকের আওয়াজ শুনলে তিনি খুঁজে ফেরেন নিজের অভিজিৎকেই। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়ে সড়কপথে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি ফেরার পথে ২০১৯-এর ৭ ডিসেম্বর বহরমপুরে পথ দুর্ঘটনায় মারা যান অভিজিৎ। গাড়িতে থাকা বাকিদের কোনওরকম আঘাত না লাগায় অভিজিতের মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে বহরমপুর আদালতে মামলাও করেছেন পারমিতা।

খুনের তত্ত্বে এখনও অনড় স্ত্রী। কিন্তু অভিজিৎ নেই, এটায় সায় দেয় না তাঁর মন। তাই মিছিলের আওয়াজ কানে এলে ব্যালকনিতে ছুটে যান। বিয়ে পরবর্তী নয় বছরে তিনি পাঁচটি ভোট করতে দেখেছেন অভিজিৎকে। ২০১১ এবং ২০১৬-র বিধানসভা ভোট, ২০১৪ এবং ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১৫-র পুরভোট। ফলে দুয়ারে বিধানসভা ভোট চলে আসায় অভিজিৎকে ফিরে দেখেন পারমিতা। বলছেন, ভোটের সময় ওর মতো ব্যস্ত থাকতে কাউকে দেখিনি। দিনে ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় বাইরে কাটাত। বাড়িতে যখন থাকত তখন বাড়িটাই হয়ে উঠত পার্টি অফিস। রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে ভোট কৌশল নিয়ে আলোচনা করত, নয়তো ফোনে ব্যস্ত থাকত। মেয়ে অত্রিশ্রীও সেই সময় বাবার আদর থেকে বঞ্চিত থাকত। জানতাম অভিজিতের সমস্ত কিছুই রাজনীতিকেন্দ্রিক, তাই সমস্ত কিছুই মেনে নিতাম।

- Advertisement -

বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নামও উঠে এসেছিল। শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হয়েছেন শংকর ঘোষ। কিন্তু তাতে মন খারাপ হয় না পারমিতার। বরং শংকর প্রার্থী হওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন তিনি। শংকরের মতোই ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছিলেন অভিজিৎ। দুজনের মধ্যে আরও একটি মিল হল, কংগ্রেস ছেড়ে ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অভিজিৎ। কিছুদিন আগে সিপিএম ছেড়েছেন শংকর। সেই সূত্র ধরেই পারমিতা বলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দিনই শংকরদা ফোন করেছিলেন। শুভেচ্ছা জানিয়েছি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। শিক্ষিত নতুন রক্তই তো রাজনীতিতে আসা উচিত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অভিজিতের অসম্পূর্ণ কাজ শংকরদা সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
রাজনীতিতেতে কি নিজের ভবিষ্যৎ দেখছেন? প্রশ্নটা করতেই সটান পারমিতা বলছেন, যে রাজনীতির জন্য অভিজিৎকে চলে যেতে হয়েছে, সেই রাজনীতির থেকে কীই বা আর পাওয়ার আছে!