সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : একদিকে দুষ্কৃতী তাণ্ডব, অন্যদিকে সংরক্ষিত এলাকার বেপরোয়া গাড়ির দৌরাত্ম্য। এই দুইয়ের দাপটে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পুরো একটা বন। ওই বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছ নিধনের ফলে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে এলাকা। বন ছেড়ে রাস্তায় বের হয়ে আসছে বন্যপ্রাণীরা। বেপরোয়া গাড়ির তলায় চাপা পড়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে তারা। এমনই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডির বারোঘড়িয়া ফরেস্ট।

একটা সময় ছিল যখন দিনের বেলাতেও একা একা ওই বনে ঢুকতে সাহস পেতেন না মানুষজন। অথচ এখন যে কোনো সময় শিশুরাও অবাধে ঢুকে পড়ে জঙ্গলের ভিতরে। এই এলাকায় মূলত আদিবাসীদের বনবাস। স্থানীয় বাসিন্দা সুলেট মার্ডি, সিরাজ আলিদের দাবি, কিছু দুষ্কৃতী রাতের অন্ধকারে বড়ো বড়ো গাছ কেটে ফেলেছে। এখন আর ওই জঙ্গলে পুরোনো গাছ নেই বললেই চলে। জঙ্গল ছোটো হয়ে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীরা রাস্তার ওপর বের হয়ে আসছে। আগে এই বনাঞ্চলে শেয়াল, বুনো শুয়োর, বনবিড়াল, বনখরগোশ, নেউল সহ নানা ধরনের সাপের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল। এখন ওই  পশুরা রাস্তায় চলে আসছে। বেপরোয়া গাড়ির চাকার তলায় পড়ে মৃত্যু হচ্ছে।

মহম্মদ সিরাজ আলির দাবি, গত কয়েক বছরে বারোঘড়িয়া ফরেস্টের কমপক্ষে একশোটি পশু গাড়ি চাপা পড়ে মারা গিয়েছে। বারোঘড়িয়া ফরেস্টের পূর্বদিকে বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রাজ্য সড়ক। বুনিয়াদপুরের দিক থেকে ছাইতেনতলা বাসস্ট্যান্ড ও আমিনপুর বাসস্ট্যান্ডের মাঝে তিন কিলোমিটার রাস্তা বারোঘড়িয়া জঙ্গলের পশুদের করিডর। ওই পথ ধরেই তারা জঙ্গল থেকে বের হয়ে পশ্চিমে যায় খাবারের সন্ধানে। রাজ্য সড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির চোখ ঝলসানো আলোয় কিছু বুঝে উঠতে না পেরে গাড়ির ধাক্কায় কিংবা গাড়ির নীচে চাপা পড়ে মারা পড়েছে বন্যপশুরা। বারোঘড়িয়া, ছাইতেনতলা, বাড়ইডাঙ্গা, পোইনালা মহাগ্রাম এলাকার মানুষের দাবি, করিডর অংশটুকুতে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ, চোখ ঝলসানো আলোর ব্যবহার কমানো শুরু করলেই এই মৃত্যু আটকানো য়াবে। তাঁদের দাবি, এই মৃত্যু কমানোর জন্য ফরেস্ট দপ্তরকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

পরিবেশকর্মী তথা কবি করুণাময় চক্রবর্তী বলেন, বারোঘড়িয়া আছে। তবে জঙ্গল নেই। প্রায় জঙ্গলের মধ্যেই সরকারি কলেজ স্থাপন আরও একটি ভুল সিদ্ধান্ত। য়ার কারণে বন্যপশুদের নতুন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। আমরা কবে সচেতন হব জানি না। এই প্রসঙ্গে বনদপ্তরের আয়রা ফরেস্টের আধিকারিক গৌতম দাস জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি জেলা দপ্তরের নজরে নিয়ে আসবেন।