লকডাউনে জলদাপাড়াজুড়ে পৌষ মাস বুনোদের

90

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : করোনা পরিস্থিতির জেরে লকডাউনে কার্যত পর্যটকশূন্য ডুয়ার্সের পর্যটনকেন্দ্রগুলি। জলদাপাড়াও তার ব্যতিক্রম নয়। পর্যটকরা না আসায় যত চিন্তা পর্যটন ব্যবসায়ীদের। এদিকে, ফাঁকা ও নির্জন জঙ্গল পেয়ে দিব্যি নিশ্চিন্তে আছে বন্যজন্তুরা। ভিড় নেই, উৎসাহী পর্যটকদের উৎপাত নেই, দূষণ নেই। তাই মাঝে মাঝেই আপন খেয়ালে রাস্তার ওপর আবার কখনও বনকর্মীদের আবাসের একেবারে কাছাকাছি চলে আসছে বন্যপ্রাণীরা। অন্য সময় যেসব দৃশ্য দেখতে পর্যটকরা রীতিমতো উদ্গ্রীব হয়ে থাকেন, সেসব এখন একেবারেই সহজলভ্য। কিন্তু দেখারই তো কেউ নেই।

কখনও মায়ের সঙ্গে গন্ডার শাবক খুনশুটি করছে। আবার কখনও বাইসন আর হরিণের পাল ঘাস খেতে খেতে বনের ভেতর দিয়ে পর্যটকদের যাতায়াতের রাস্তার উপরেই চলে আসছে। কখনও বনকর্মীদের কোয়ার্টারের এক্কেবারে কাছে চলে আসছে তারা। কেউ তাদের বাধা দেওয়ার নেই। যেন নিস্তব্ধতার চাদরে মুড়ে রয়েছে গোটা জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। আর সেখানে বন্যপ্রাণীরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অপরদিকে, পর্যটকদের জঙ্গল সাফারি বন্ধ করে দেওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের। চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছেন জিপসিচালক, মালিক, গাইড, টুর অপারেটর সহ রাভা, মেচ নৃত্যশিল্পীরা। এ যেন কারও পৌষ মাস আর কারও সর্বনাশ।

- Advertisement -

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক দেবদর্শন রায় বলেন, জঙ্গলের নিস্তব্ধতায় বন্যপ্রাণীরা অবাধে বিচরণ করছে। পর্যটকদের যাতায়াতের রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাইসন, হরিণ, বুনো শুয়োর, গন্ডার। কেউ তাদের বাধা দেওয়ার নেই।
জলদাপাড়ার এক বনকর্মী বললেন, সজারুর দল আমাদের কোয়ার্টার ক্যাম্পাসে চলে আসছে। যা আগে কখনও দেখিনি। আর বাইসন, গন্ডার বা হরিণের দল আগে হঠাৎ হঠাৎ আসত ক্যাম্পাসে। কিন্তু এখন সূর্য অস্ত যেতেই দল বেঁধে চলে আসছে ক্যাম্পাসে। অনেকটা যেন বাঁধন ছিঁড়ে স্বাধীনতার উল্লাসে মেতে উঠেছে তারা। জলদাপাড়া পূর্ব রেঞ্জের রেঞ্জার স্বপন মাঝি বললেন, বন্যপ্রাণীরা এতটাই আপন খেয়ালে বিচরণ করছে দেখেও শান্তি হয়। বৃষ্টির ফলে জন্মানো কচি ঘাস তাদের খাবারের ঘাটতি পুরো মিটিয়ে দিয়েছে। জলে নেমে স্নান করে খুনশুটি করছে গন্ডারের দল। এমন দৃশ্যও এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে।

জলদাপাড়া লজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জহরলাল সাহা বলেন, সাফারি, এলিফ্যান্ট রাইডিং সব বন্ধ। গতবছরের লকডাউনের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই আবার লকডাউনের কবলে পড়লাম। আবার ১৬ জুন থেকে তিন মাসের জন্য এমনিতেই জঙ্গল ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে অক্টোবরের আগে পরিস্থিতি ঠিক হবে কি না সন্দেহ রয়েছে। যদিও বন্যপ্রাণীরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটাও শুনতে ভালো লাগছে।
পর্যটনশিল্পের দুরবস্থা প্রসঙ্গে দেবদর্শনবাবু বললেন, পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গাইড, টুর অপারেটর, জিপসিচালক, মালিক, লজ ব্যবসায়ী সকলের অবস্থা খুব খারাপ। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সবাই আমরা পরিস্থিতির শিকার। এটা মেনে নিতেই হবে।