ভুট্টা খেতে বুনো হাতির হানা, লকডাউন ভেঙে উপচে পড়ল ভিড়

শামুকতলা: ভুট্টার লোভে সোমবার সাতসকালে লোকালয়ে হানা দিল বুনো দাঁতাল। উত্তর রায়ডাক বন বিভাগের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে দাঁতালটি তুরতুরি বেলতলা এবং বিশ্বাসপাড়ায় ভুট্টা খেতে হানা দেয়।

লোকালয়ের চাষের জমিতে কচি সুস্বাদু ভুট্টা পেয়ে মহানন্দে উদরস্থ করে হাতিটি। বাইরে খাবার পেয়ে বাসিন্দাদের ঘরবাড়ির দিকে ফিরেও তাকায়নি ওই দাঁতাল। ফলে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া তেমন কিছু হয়নি বলেই জানাচ্ছেন বাসিন্দারা।

- Advertisement -

এদিকে ভুট্টা ক্ষেতে হাতি পড়েছে শুনে বহু উৎসাহী মানুষ লকডাউন ভেঙে ঘরের বাইরে বের হন। বাজি-পটকা ফাটিয়ে, মুখে রে রে শব্দ তুলে একসঙ্গে তেড়ে গিয়ে হাতিটিকে লোকালয় থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্থানীয়রা। এব্যাপারে নর্থ রায়ডাক রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার অমিতেশ শতপতি বলেন, অবশেষে শুন্যে দু রাউন্ড গুলি ছুড়ে হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে সমর্থ হন বন বিভাগের কর্মীরা।

হাতি দেখার অজুহাতে সোমবারের সকালটা নিজেদের মধ্যে খোশ গল্প-গুজব করে কাটিয়ে দেন গ্রামের অনেকেই। আবার কেউ কেউ বলেন, করোনা মোকাবিলায় টানা লকডাউনের জেরে মাসখানেকের কিছু বেশী সময় ধরে গৃহবন্দি একঘেয়ে জীবনে কিছুক্ষণের জন্য বৈচিত্র এনে দিয়েছে দাঁতাল। সাতসকালে হাতির আগমনকে ঘিরে আমরা প্রত্যেকেই কমবেশি আনন্দ উপভোগ করেছি। দিনেরবেলায় সচরাচর জনবসতি এলাকায় বুনো হাতি ঢোকে না। রাতের অন্ধকারে হাতির আক্রমণ ঘটলে বাসিন্দাদের যেভাবে আতঙ্ক, ভয় গ্রাস করে, সেটা দিনের বেলায় হয়নি।

এদিন উত্তর রায়ডাক বন বিভাগের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে দাঁতালটি প্রথমে তুরতুরি বেলতলা এবং বিশ্বাসপাড়ায় ভুট্টা ক্ষেতে হানা দেয়। এরপর মানুষের তাড়া খেয়ে হাতিটি ধওলাঝোরা-২ এলাকায় মানিক বিশ্বাসের ভুট্টা ক্ষেতে হামলে পড়ে। সেখানে কচিকচি ভুট্টা সাবাড় করে। হাতি তাড়াতে বনকর্মীরা শুন্যে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। টাটকা বারুদের গন্ধে বেগতিক বুঝে হাতিটি শিলটং বস্তি হয়ে সকাল ৬টা নাগাদ দক্ষিণ রায়ডাক বন বিভাগের রামপুর জঙ্গলে ঢুকে যায়। হাফ ছেড়ে বাঁচেন বনকর্মীরা।

এদিন লাঠিতে ভর দিয়ে হাতি দেখতে ঘর ছেড়ে বের হন শতায়ু বৃদ্ধা কাঞ্চনি রায়। তিনি বলেন, আমি ঘরেই থাকি। খুব একটা বের হই না। হাঁটা চলায় কষ্ট হয়। হাতি দেখে আমি দারুণ খুশি। বহুদিন পর অনেক চেনা পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে খুব ভালো লাগল।