৪১ বছর পরে মিলবে মুক্তি? হাইকোর্টের নির্দেশের অপেক্ষায় দীপক

140
সংগৃহীত ছবি

কলকাতা: পরিবারের লোকজন ধরেই নিয়েছিল দীপক মৃত। তাই খোঁজাখুঁজি বন্ধ করে দিয়েছিলেন বহু আগেই। কিন্তু ৪১ বছর পর দীপকের বেঁচে থাকার খবরে বিস্মিত পরিবার। অপেক্ষা ঘরে ফেরার। তবে দীপকের ঘরে ফেরা এখন নির্ভর করছে কলকাতা হাইকোর্টের উপর। প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণন এবং অনিরুদ্ধ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ কি রায় দেয় তার উপর।

নেপালের ইলাম জেলার একাতপা গ্রামের তরুণ দীপক যোশী তিমসিনা ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। আর ফেরেননি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৮১ সালে দার্জিলিং থেকে একটি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় দীপক যোশীকে। দার্জিলিং-য়ের কোনও একটি চা বাগানে কাজ করতেন তিনি। চাকরি দেওয়ার নাম করে তাকে একটা খুন করতে বলা হয়। সেই কথায় তিনি খুন করেন। ধরা পড়ার পর থেকেই তিনি জেলবন্দী। কখনও বহরমপুর সংশোধনাগার, কখনও আলিপুর সংশোনাগার, কখনও আবার মানসিক হাসপাতালে দিন কেটেছে দীপক যোশীর।

- Advertisement -

বিষয়টি জানতে পেরে কলকাতা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে। মামলায় যুক্ত করা হয় লিগাল সার্ভিস অথরিটিকে। লিগাল সার্ভিসের তরফে এই মামলায় সওয়াল করছেন জয়ন্ত নারায়ণ চট্রোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘৪০ বছর ধরে একজন বিনা বিচারে বন্দী হয়ে রয়েছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এটা একটা চরম নিদর্শন। বিচার হলে হয়ত তিনি শাস্তি পেতেন। কিন্তু ছাড়াও পেতে পারতেন।’

সুপ্রিমকোর্টের বেশ কয়েকটি রায়ের উল্লেখ ও করেছেন জয়ন্ত নারায়ণ চট্রোপাধ্যায়। যেখানে এই ধরনের মামলায় অভিযুক্তকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীপক যোশী যেহেতু একজন নেপালী। সেই জন্য প্রধান বিচারপতিকে নেপাল সরকারকে একটি চিঠি লিখে বিষয়টির ব্যাপারে অবগত করানো এবং যাতে তার মুক্তির পথ সুগম করা যায় সেই আবেদনও করেছেন আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত একটি হ্যাম রেডিও সংগঠন অনেক খোজাখুজির পর তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছে বলে জানা গিয়েছে। দীপক যোশীর দেওয়া তথ্য অনুসারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তাঁর মা ও এক ভাই বেঁচে রয়েছেন। তাঁরা স্বভাবতই বিস্মিত দীপক যোশী তিমসিনা বেঁচে আছেন জেনে। সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শেষ হয়েছে। আপাতত রায়দান স্থগিত রেখেছে ডিভিশন বেঞ্চ। কি রায়দান করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তারই অপেক্ষায় দীপক যোশী তিমসিনা আর নেপালে ফেলা আসা তাঁর গ্রাম, মা ও ছোট ভাই।