লাল পছন্দ করেন, না নীল? জানেন কি, আপনার বাছাই করা পোশাকের রং-ই হল আপনার আযনা ! আপনি মানুষটাকে চেনা যাবে এক লহমায়।

রং নিয়ে  কাজকর্ম নতুন নয়। বিদেশে অনেক আগেই রং সাহায্যে সুস্থতার নিদান শুরু হযে গেছে। রং এবং মনস্তত্ত্ব একে অন্যের সঙ্গে ভীষণরকম জড়িযে সম্প্রতি আবার জানা যাচ্ছে, আপনি কী রঙের পোশাক পছন্দ করেন, দোকানে গেলেই কোন রংটা আপনার চোখে বেশিরকম পড়ে, সেগুলো যদি কেউ খুঁটিযে দেখে, তাহলে স্পষ্ট বোঝা যাবে, মানুষ হিসেবে আপনি কেমন। সেই কারণে আপনাকে যাচিয়ে নেওযার ইচ্ছে যদি কারও থেকে থাকে, তাহলে তা খুব সহজে করে উঠতে পারবে আপনার পছন্দের রং দেখে। এই ব্যাপারটিকে কিন্তু সরাসরি স্বীকৃতি দিচ্ছে গবেষণা। কোন রঙের পোশাক পরে অফিস করছেন, কোন রংযে নাইটআউট, কোন রঙের পোশাকে পার্টি ইত্যাদি দেখলে আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বলে দেওযা যায খুব সহজেই।

বিশ্বব্যাপী চালানো হযেে এক সমীক্ষা। আর সেই সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে,

আমরা যে রঙের পোশাক পরছি, তার প্রভাব পড়ে আশপাশের মানুষের ওপরে। সেই রং দেখে সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা করতে শুরু করেন। হযতো বা অজান্তেই। এটাই মানুষের রীতি।

সমীক্ষাটি করেছে বিশ্ববরেণ্য এক ফ্যাশন ব্র‌্যান্ড।

১৫০০ মানুষের মধ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়। বেশিরভাগই নানা বযসী মহিলা। পোশাক এবং রং নিযে তাঁদের খুঁতখুঁতানি সবচেযে বেশি। এই সমীক্ষায ৪৩ শতাংশ মানুষ কালোর জযগান করেছেন। তাহলে বুঝতেই হবে, রংযে মধ্যে কালো রংটাই সারা বিশ্ব জুড়ে সবচেযে হিট। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ফরম্যাল এবং ইনফরম্যাল যে কোনো অনুষ্ঠানেই কালোকে বেছে নিচ্ছেন পছন্দের রং হিসেবে। ইনটারভিউ, প্রেজেন্টেশন কিংবা প্রথম দিনের ডেট সবেতেই কালোর মাহাত্ম্য দেখা যাচ্ছে। এই সমীক্ষায ২৭ শতাংশ বলছেন, তাঁরা প্রথমদিনের ডেটে পরে গিয়েছিলেন কালো রঙের পোশাক তবে কালোর পরেই উঠে আসছে লালের নাম। বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে। তাঁরা প্রথম ডেট থেকে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ, সব জাইগাতেই  পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে লাল রংটা পছন্দ করেন বেশি। তার কারণ, লাল পরলে আলাদা একটা এনার্জি ফিল করেন তাঁরা, এমনটা জানাচ্ছেন অনেকেই।
তবে রাতের হুল্লোড় কিংবা কোজি ডিনার, সে সব জাযগায কিন্তু লাল অথবা কালো নয। সেখানে হিট হল সিলভার কালার। সিলভার যে পরে, তার দিকেই বাকিদের চোখ থাকে। অর্থাৎ  পার্টির মধ্যমণি। সিলভারের আভিজাত্য আর মাদকতা দুই-ই আছে।
তবে জিমের ক্ষেত্রে কিন্তু সিলভার বা লাল চলবে না। তখন দরকার পড়বে নীলের। চোখের পক্ষে সুদিং, এনার্জেটিক। দেখবেন, জিমে যে তোযালেগুলো ব্যবহার করা হয, তার বেশিরভাগই নীল। ঘাম ঝরিযে ক্লান্ত হযে গেলে এনার্জি দরকার সবার আগে। তাই নীল। যে গেঞ্জি এবং প্যান্ট পরে জিমে যান বেশিরভাগ মানুষ, তার রং নীল। এই রংযে জন্য পরিশ্রমটা গাযে লাগে না। বরং আরও বেশি করে এনার্জি পাওযা যায। জিম যাওযা মানুষজন তেমন কথাই বলছেন যে।
তবে নিজেরা কোন রংযে কী ফিল করি, তা যেমন রং নির্বাচনের একটা দিক, তেমনি এর আরেকটা দিকের কথা শুরুতেই বলছিলাম। আমাদের নির্বাচন করা রং দেখে অন্যে আমাদের সম্পর্কে ভেবে নেন।
কিন্তু ঘটনা হল, সমীক্ষা বলছে, আমাদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ মানুষ মনেই রাখি না যে আমাদের পোশাকের রং আমাদের চরিত্রের মাপকাঠি হযে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে মজার ব্যাপার, যারা এটা নজর দিই না, তাদের মধ্যে থেকেই অন্তত ৪৩ শতাংশ বলছেন, তাঁরা অন্যকে বিচার করেন তাঁদের পছন্দ করা রং দেখেই।
যেমন লাল। রক্তের রং। আগ্রাসন, রাগ উত্তেজনা ইত্যাদির সঙ্গে সমার্থক। আবার শক্তিরও প্রতীক। এ রংযে পোশাক বেশি পরেন যাঁরা, তাঁদের আগ্রাসী ভেবে নেওযাটা খুব প্রচলিত রীতি। আবার নীল পরতে বেশি ভালোবাসেন যাঁরা, তাঁদের দেখে সৃষ্টিশীল মানুষ বলেই মনে হয।
সেই সঙ্গে রোমান্টিক প্রকৃতির। সাদা যদিও খুব কম, তবু সে রংটা ঐতিহ্য আর শান্তি দুটোরই পরিচয দেয।
আর খুব জমকালো রংবেরংযে পোশাক কেউ পরলে? যে কোনোভাবে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মরিযা চেষ্টা তাঁর। এটা বোঝাই যায। তাই সাবধান। আপনার বাছাই কিন্তু আপনার চরিত্রের পরিচাযক। দোকানে যাওযার সময এ ব্যাপারটা সবার আগে মাথায় রাখবেন।