বামেদের বাদ দিয়ে এবার কেউ সরকার গড়তে পারবে না, ঘোষনা সুজন চক্রবর্তীর

233
sujan chakraborty

বর্ধমান: বিজেপি ও তৃণমূল উভয়েই বুঝে গিয়েছে তাঁরা একা আর জিতবে না। তাই এবার বামেদের বাদ দিয়ে কেউ সরকার গড়তে পারবে না। সরকার বামেদেরকেই করতে হবে বলে শনিবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে জনসভা করতে এসে  দাবি করলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। এই প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুজনবাবু বলেন, ‘ভোটের ফল ত্রিশঙ্কু হলে কি হবে এইসব বলা এখনই শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। তার মানে হল বিজেপি বুঝে গেছে তাঁরা একা জিততে পারবে না। তৃণমূলও সেকথা বুঝে গিয়েছে। অর্থাৎ তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই হারবে। জিতবে বাংলার মানুষ ।বাংলার সর্বনাশ হচ্ছে। বাংলাকে বাঁচানো হবে বলেও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এদিন দাবি করলেন।’

‘দিদির দূত’ নামে ট্যাবলো যাত্রার সূচনা শনিবার তৃণমূলের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করেন।  তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘দিদিকে দেখো’ ফেল হয়েছে। ‘দিদির গর্ব’ আর একটা ফেল। এখন ‘দিদির দূত’ নাকি ‘দিদির ভূত’ বের হচ্ছে সেটা লোকে পরে বুঝতে পারবে। দিদির আবার দূত কিসের। ২৯৪টা তোই দিদির। দিদিতো সর্বত্রই বিরাজমান। ‘দিদির দূত’, না ভূত বের হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর চালুকরা ’মা ক্যান্টিন ’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুজন বাবু বলেন, ‘লকডাউনের সময়ে বামেরা যে ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’ চালু করেছিল তা দেখে মুখ্যমন্ত্রীর দুঃখ হয়েছিল।’ এবার ‘সাক্ষাৎ সলিলে ডুববে’ বুঝতে পেরে ভোটের দু’মাস আগে ‘মা ক্যান্টিন’ উনি চালু করেছেন। এর মাধ্যমে সরকারের পয়সা লুট করার বন্দোবস্ত হয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সুজনবাবু বলেন, ‘লুটের হিসাব ফিরে এসে আমাদেরই নিতে হবে।’ যাদবপুর আসনে সুজন চক্রবর্তীকে এবার হাওয়া করে দেওয়া হবে বলে তৃণমূলের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে সুজনবাবু বলেন, ‘বোঝা যাচ্ছে উনি এখন একজন ভালো ম্যাজিশিয়ান হয়ে গিয়েছেন। হাওয়া করতে ওরা সত্যি পারে। বাংলার বহু মানুষকে হাওয়া করে দিয়ে মাটির তলায় পুঁতে দিয়েছে। মিথ্যা মামলায় অনেককে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে।’  তবুও বাংলার মানুষের শক্তিকে উনারা দুর্বল করতে পারবেন না বলে সুজনবাবু মন্তব্য করেছেন।

- Advertisement -

মেমারির নতুন বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত জনসভা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন , তৃণমূলকে ঠেকানোর জন্য বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে আপনি যাদের কারণে তৃণমূলের উপরে ক্ষুব্ধ তাদের হাত শক্ত করা। নব্বই ভাগ তৃণমূল হয়ে যাওয়া বিজেপিকে সমর্থন দেওয়ার কোন কারণ নেই। বিজেপিকে ঠেকানোর জন্য তৃণমূলের যাকে আপনি জেতাবেন তিনি ভোটের রেজাল্ট বের হবার পর ৪৮ ঘন্টা যেতে না যেতে বিজেপি হয়ে যাবে। তাই ‘বিজেমূল’কে ঠেকাতে মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের কোন বিকল্প নেই। বিকল্প হতে পারে না। সুজনবাবু প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলকে সত্যি কি বিজেপি হারাতে চায়!

যদি সত্যি বিজেপি তৃণমূলকে হারাতে চাইতো তাহলে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শা, দিলীপ ঘোষ, এদের কাউকে লাগতো না। চিটফান্ড কাণ্ডে দিল্লির সরকার যদি সিবিআইকে তদন্তটা ঠিকঠাক করতে দিত,তাহলে চিটফান্ড কান্ডের সবথেকে বড় বেনিফিসিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর বাঁদিকে-ডানদিকে যারা আছে সবাই  নবান্নর ১৪ তলা থেকে পালিয়ে যেত। ওদের টিকে থাকার আর সূযোগ থাকতো না। বিজেপি চায়নি তৃণমূল চলে যাক। কারণ তৃণমূল থাকলে বিজেপির লাভ। এসবের জন্য বাম কংগ্রেস সবাই রুখে দাঁড়াচ্ছে দেখে মোদী ও মমতা এখন ভয় পেয়ে গিয়েছেন। বাংলার মানুষের চোখ বদলে গিয়েছে। এবারের ভোটে বাংলার মানুষ তৃণমূল ও বিজেপি উভয়কেই যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে। জনসভার মঞ্চ থেকে সুজনবাবু ঘোষনা করেন এবারের বিধান সভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ডবল ডিজিটের উপরে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই। আসন সংখ্যায় তৃণমূল তিরিশ বা একশোর ঘর পেরুতে পারবে না। তার আগেই তৃণমূল বান্ডিল হয়ে যাবে। একইরকম ভাবে বিজেপিও দু’অঙ্কের ডিজিটে বান্ডিল হয়ে যাবে বলে সুজনবাবু এদিন ঘোষন করেন।

যদিও সুজনবাবুর এই ভোট ভবিষ্যৎ বাণীকে কটাক্ষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, ‘সুজনবাবু এখন যে জ্যোতিষী গিরিও করছেন তা জানা ছিলনা।  ২০১১ সালেও ওনাদের জ্যোতিষ বিচার ফেল করেছিল। এবারেূ ফেল করবে। কারণ বাংলায় যাহা বাম তাহাই আসলে রাম। বামেদের  বহুরুপী সাজাটা  বাংলার মানুষ ২০১৯ সালেই ধরে ফেলেছে। তাই এবারের বিধানসভা ভোটের পর বাম ও কংগ্রেসকে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না।’