তিন পুরসভার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা

327

বর্ধমান: বকেয়া রয়েছে ‘সার্ভিস ট্যাক্স’। এমনটা জানিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান, কাটোয়া ও কালনা পুরসভার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলিকে জানিয়ে দিয়েছে বর্ধমানের বড়নীলপুরের জিএসটি দপ্তর। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিও চিঠি দিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুরসভাগুলিকে জানিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে পুরসভার প্রশাসনিক মহলে।

লিড ব্যাংকের পূর্ব বর্ধমান জেলার ম্যানেজার রঞ্জন গুহ বলেন, জিএসটি সংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর আইন মোতাবেক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বলেছে। ব্যাংক সেই নির্দেশ পালন করেছে। যদিও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কেন্দ্রের জিএসটি দফতরের বর্ধমান ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অভিজিৎ মণ্ডল শুক্রবার বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।

- Advertisement -

জিএসটি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগের জন্যে একটি বহুজাতিক সংস্থা তিন পুরসভা এলাকায় মাটির তলা দিয়ে ফাইবার তার নিয়ে যায়। তার জন্যে ওই সংস্থা পুরসভাগুলিকে ইনস্টলেশন চার্জ দেয়। সেই খবর পায় জিএসটি বিভাগ। তারা এরজন্য বর্ধমান পুরসভাকে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা এবং কাটোয়া পুরসভাকে ২ লক্ষ টাকার মত ‘সার্ভিস ট্যাক্স’ ধার্য করে।

এই বিষয়ে বর্ধমান পুরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ওই টাকা ২০১৬ সাল নাগাদ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর ফের হঠাৎ করে কেন্দ্রের জিএসটি দপ্তর জিএসটি বাবদ ১৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৩২ টাকা চেয়ে চিঠি দেয়। ওই টাকাও ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ফের গত ১৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের জিএসটি দপ্তর একটি চিঠি পাঠায়।

সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জিএসটি কর্তৃপক্ষ বর্ধমান পুরসভার কাছ থেকে ৪৯,৬৬,৪৬৭ টাকা পাবে। যার মধ্যে বর্ধমান পুরসভাকে বকেয়া টাকার সুদ বাবদ গুনতে হবে ২৩,৪৩,৯১৩ টাকা। এই বিষয়ে বর্ধমান পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার অমিত গুহর বক্তব্য, অন্যায়ভাবে যেমন টাকা চাওয়া হয়েছে, তেমনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাংক থেকে টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।

কালনা পুরসভার প্রশাসক দেবপ্রসাদ বাগ বলেন, জিএসটি-সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য আমাদেরও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জেনেছি। অন্যদিকে কাটোয়া পুরসভার প্রশাসক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সার্ভিস ট্যাক্স আগেই জমা করে দেওয়া হয়েছিল। এখন জিএসটি বাবদ ফের ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হচ্ছে। আগাম কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে টাকা তোলা যাবে না বলে ব্যাংক নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিল। রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, এইসব থেকে একটা বিষয় পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে বাংলার পুরসভাগুলিকে অচল করার মনোভাব নিয়ে কেন্দ্রের সরকার এইসব করছে।

যদিও রবীন্দ্রনাথবাবুর এই বক্তব্য মানতে চাননি জেলা বিজেপির সভাপতি সন্দীপ নন্দী। তিনি বলেন, কী কারণে পুরসভার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা জরি করা হয়েছে, সেটা ব্যাংক কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। তবে তৃণমূল সব ঘটনা নিয়েই অহেতুক কেন্দ্রের সরকার ও বিজেপিকে দোষারোপ করছে।