বিনা ভাড়ায় করোনা আক্রান্তদের পরিষেবা দিচ্ছেন সত্তরোর্ধ্বো রবিউল

32

বর্ধমান, ৪ জুনঃ করোনা কেড়ে নিয়েছিল তাঁর মায়ের প্রাণ। মা করোনা আক্রান্ত হওয়ার সময়ে বর্ধমানের বাবুরবাগ নিবাসী শেখ রবিউল হক নিজের চোখে দেখেছিলেন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে কালোবাজারি। সেই ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে রিক্সা চালক রবিউল হক অসহায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের নিজের ভ্যানে সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। সত্তরোর্ধ্ব করোনা যোদ্ধা রবিউলের এই মহতি কর্মকাণ্ড সাড়া ফেলে দিয়েছে শহর বর্ধমানের বাসিন্দা মহলে।

রিক্সা চালিয়ে যতটুকু উপার্জন হয়, তা দিয়েই তাঁর সংসার চলে। মাসখানেক আগে তাঁর পাশের বাড়ির এক বৃদ্ধা মহিলা করোনা আক্রান্ত হন। তা জানার পরেই বৃদ্ধাকে বাড়িতে ফেলে রেখেই, পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান। পরে বাড়িতেই মারা যান ওই বৃদ্ধা। এই ঘটনা ব্যাথিত করেছিল রবিউলকে। এর কিছুদিন পর ‘রোজার’ সময় রবিউলের বৃদ্ধা মা করোনা আক্রান্ত হন। তিনি তাঁর মাকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। সামান্য রাস্তা যাওয়ার জন্যে সেই সময়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক তাঁর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা চায়। অর্থিক সামর্থ না থাকায়, রবিউল আর তাঁর বৃদ্ধা মায়ের জন্যে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে পারেননি।

- Advertisement -

বৃদ্ধা মাকে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এরপর তিনি একটি রিক্সা জোগাড়ের চেষ্টা করেন। রিক্সা চালক ভাড়া চান দেড় হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত অনেক কষ্টে বৃদ্ধা মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান রবিউল। কিন্তু, মাকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে পারেননি। এইসব ঘটনা নাড়িয়ে দেয় রিক্সা চালক রবিউলকে। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, অসহায় ‘করোনা’ আক্রান্ত রোগীদের বিনা ভাড়ায় তিনি হাসপাতালে পৌঁছে দেবেন ।

রবিউল হক বলেন, করোনা আক্রান্তদের বিনা ভাড়ায় হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। নিজের রিক্সাটিকে তিনি ভ্যানে পরিণত করেন। বিনা ভাড়ায় করোনা রোগীদের পরিবহনের বিষয়টি জনগনকে জানাতে, তিনি তাঁর ভ্যানের সামনে পোষ্টার ঝুলিয়ে দেন। তাতে তিনি নিজের ফোন নম্বরও উল্লেখ করেন। সেই ভ্যান নিয়ে তিনি বর্ধমান শহরের নার্স কোয়ার্টার মোড়ে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকেন। ডাক পেলেই পরিচিতদের দেওয়া পিপিই কিট পড়ে তিনি হাসপাতালে রোগীকে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে ছুঁটে যাচ্ছেন।

সংসারে নুন আনতে, পানতা ফুরানো অবস্থা থাকলেও, রবিউল তাঁর নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল রয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যেসব গাড়ি চালকরা করোনা আক্রান্তদের শোষণ করছেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই, তিনি ওইসব অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই নিজের ভ্যান নিয়ে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শরীরে যতক্ষণ প্রাণ, থাকবে ততক্ষণ তিনি এই কাজ করে যাবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রবিউল জানিয়েছেন।