জমি ছাড়াই কোচবিহারে আইন কলেজের অনুমোদন

0
300
- Advertisement -

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : জমি নেই, রাজ্যের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নেই। অথচ আইন কলেজ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোচবিহার-২ ব্লকের মধুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাটিকাটা এলাকায় উত্তরায়ণ ল’ কলেজের অনুমোদন দেওয়া নিয়ে এমনই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত করে জেলা প্রশাসনকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। যদিও কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ উভয়েই দাবি, নিয়ম মেনেই তাঁরা সবকিছু করেছেন। কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ান বলেন, কোর্ট থেকে ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।

উত্তরায়ণ ল’ কলেজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ১৫-১৬ দিন বাদেই ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর অনুমোদন দিয়ে দেয়। কিন্তু দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ করার জন্য যখন অনুমোদন দিয়েছে তখন কলেজ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জমি ছিল না। তারা কলেজের জন্য জমি কিনেছে ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর। পাশাপাশি তারা রাজ্যের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট পেয়েছে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কোনও কলেজের অ্যাফিলিয়েশন দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শর্তই হচ্ছে নিজস্ব জমি ও রাজ্যের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট। কিন্তু এই দুটির একটিও না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে কলেজ করার অনুমোদন দিয়ে দিল? অপরদিকে, রাজ্যের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট পাওয়ার আগে কলেজ কর্তৃপক্ষই বা কীভাবে ২০১৯ সাল থেকে কলেজের জন্য স্টুডেন্ট ভর্তি করে নিল?

কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের স্ট্যাটিউটে এরকম কোথাও লেখা নাই যে কলেজের অ্যাফিলিয়েশন দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট লাগবে। বিশ্ববিদ্যালয় একটি অটোনমাস বডি। তার সঙ্গে রাজ্য সরকারের এনওসির কোনও সম্পর্ক নেই। রাজ্য থেকে যে এনওসি প্রয়োজন সেটা বার কাউন্সিলের অ্যাফিলিয়েশনের জন্য। ওটা আমাদের প্রয়োজন হয় না। তিনি আরও বলেন, কলেজের অনুমোদন দেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের জমি আগে থেকে থাকতেই হবে, এরকম কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। যদি ওরা আমাদের কাগজপত্র দেখাতে পারে যে তারা জমি বুকিং করেছে, ফান্ড রেডি আছে, ওদের ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে ওদের ট্রাস্টের নামে টাকাপয়সা ট্রান্সফার করা আছে, তাহলে কোনও অসুবিধা নেই। আমরা এই সবকিছু দেখেছি। এছাড়া আমরা ওদের অন্যান্য কাগজপত্র দেখেছি। ওদের কী ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে, শিক্ষার ক্ষেত্রে ওদের কী কী কাগজপত্র রয়েছে, এই সমস্ত কিছু দেখেছি। আর আমাদের ইনস্পেকশনে যে কোনও ভুল ছিল না সেটাও তো প্রমাণ হয়েছে। কলেজের অন্যতম কর্ণধার শিব সাহা বলেন, সমস্ত নিয়ম মেনে আমরা কলেজ করেছি।

কোচবিহার শহরের বিশিষ্ট আইনজীবী রাজু রায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটা অটোনমাস বডি। বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের আইন প্রণয়ন তারা করতে পারে। কিন্তু অটোনমাস বডি মানে এই নয় যে অন্য কোনও নির্দিষ্ট আইনের মধ্যে হস্তক্ষেপ করা। রাজুবাবু বলেন, কোনও বিশ্ববিদ্যালয় যদি কোনও কলেজকে অ্যাফিলিয়েশন দিতে চায়, তাহলে প্রথমেই তাকে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের জমি রয়েছে কি না। সুতরাং এক্ষেত্রে পরে জমি কেনা হয়েছে মানে তখন তার জমি ছিল না। আর জমি না থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় যদি কলেজের অ্যাফিলিয়েশন দিয়ে থাকে, তাহলে তা পুরোপুরি অবৈধ।

- Advertisement -