ভোট নিয়ে আতঙ্কে স্বামীহারা দুই স্ত্রী

94

রায়গঞ্জ: লতিফা বেওয়া, অর্পিতা সাহা স্বামীহারা দুই স্ত্রী এখনও ওই অভিশপ্ত বুথের পাশ দিয়ে গেলে কুঁকরে ওঠেন। একজন বুথে গিয়ে স্বামীর স্মৃতি খুঁজে বেড়ান। অন্যজন বুথমুখো হতে চান না। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঘটনা। দুই রাজনৈতিক দলের লড়াই। আর তাতে প্রাণ হারায় অর্পিতা সাহার স্বামী অমৃত সাহা। রায়গঞ্জ শহরের দেবীনগর দেবীতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুথের মধ্যেই একের পর এক গুলি করে তাঁকে খুন করা হয়। অন্যদিকে, ইটাহার থানার গুলন্দর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়বিল্লা গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় সিপিএম কর্মী আব্দুল আজিজকে। এছাড়া সেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে ইটাহার ব্লকের সোনাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার রাজকুমার রায়ের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় রায়গঞ্জ শহরের রেললাইন বরাবর সোনাডাঙ্গি এলাকায়।

লতিফা বেওয়া বলেন, ‘বুথে যাই স্বামীর স্মৃতির টানে।‘ অর্পিতা সাহার বলেন, ভোট দিতে গিয়ে স্বামীকে হারিয়েছি, আর নয়।‘ দেবীতলার বাসিন্দা পেশায় আলমারি কারখানার কর্মী অমৃত সাহা। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বুথের সবকটা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। শুধু একটা দরজা দিয়েই লোকজন ঢুকছিল। জানালেন অর্পিতা সাহা। তাঁর বক্তব্য, আমি আমার স্বামীর সহ বেশ কয়েকজন ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ ‌একদল মুখ ঢাকা দুষ্কৃতী এসে বুথ দখল করে বোম ও গুলি ছুড়তে থাকে। বুথ দখল করার প্রতিবাদ করায় আমার স্বামীকে বুথের ভেতরেই গুলি করে খুন করে। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে আমার স্বামীকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানান্তরিত করা হয় সিসিইউ বিভাগে। কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর মৃত্যু হয় তাঁর। আজও বুথের সামনে দিয়ে গেলে ঘটনার আকস্মিকতা নাড়া দেয় অর্পিতা সাহাকে। তাঁর ছোট মেয়ের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ২০১৮ সালে। তিন বছর পার হয়ে গেলেও এখনও চাকরি পায়নি।

- Advertisement -

লতিফা বেওয়ার ক্ষেত্রেও একই। তিনি ও তাঁর পরিবার সিপিএমের সমর্থক। ফলে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বুথের ভেতরেই খুন করেন তাঁর স্বামীকে। ঘটনার পর থেকে কেউ আর খোঁজ রাখেনি। এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি।