বর্ধমান, ২১জানুয়ারিঃ মোটা টাকা রোজগারের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে  বর্ধমানের  অনাময় হাসপাতালে এসে  শিশু কন্যা চুরিকরে পালিয়েছিল মহিলা। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের তদন্তে মহিলার শিশু বিক্রীর পরিকল্পনার পর্দা ফাঁস হল।
রবিবার দুপুরে বর্ধমানের অনাময় হাসপাতাল থেকে  শিশু চুরির ঘটনা ঘটে। এরপরেই  জোরদার অভিযান চালিয়ে পুলিশ সোমবার রাতে অভিযুক্ত মহিলা পিঙ্কি ওরফে মধুমিতা বন্দ্যোপাধায় বৈরাগ্যকে গ্রেফতার করে। তাঁর  স্বামীর মণি বৈরাগ্য কেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনাময় হাসপাতালের  সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে  দেখে অভিযুক্ত মহিলার খোঁজ চালানো শুরু হয়। সোমবার সকালে দুর্গাপুরের বেনাচিতি থেকে শিশু চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে  মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই মহিলাকে আটক করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মহিলার চিকিৎসা করানোর পরেই ফাঁস হয়ে যার তাঁর যাবতীয় ফন্দি ফিকির। এরপর  ম্যারাথন জেরার  মুখে পড়ে  মধুমিতা শিশু চুরির ঘটনা কবুল করলে রাতে শক্তিগড় থানার পুলিশ তাঁকে  গ্রেফতার করে। কিছুক্ষণ পর তার স্বামীকেও গ্রেফতার করা হয়। ধৃত দুইজনকে মঙ্গলবার বর্ধমান  আদালতে পেশ করে পুলিশ। বিচারক  মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেল হেপাজত এবং তাঁর স্বামী মণি বৈরাগ্য কে ৬দিন পুলিশ হেপাজতের  নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে  জন্মের তিন দিনের মাথায় চুরি হয়ে যাওয়া কন্যা সন্তানকে ফিরে পেয়ে খুশি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সিপটা গ্রাম নিবাসী প্রসূতির রীমা মালিক ও তাঁর স্বামী সন্দীপ মালিক।  হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অমিতাভ সাহা এবং ডিএসপি সৌভিক পাত্র শিশু কন্যার নাম দেন অনাময়ী। সোমবার রাতেই চিকিৎসা করিয়ে রাতেই  শিশু কন্যাকে তাঁর বাবা মায়ের হাতে তুলে দেন ডিএসপি ও ডেপুটি সুপার।
জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, বিশেষ প্রযুক্তি ও  বিভিন্ন সূত্র কাজে  লাগিয়ে  মহিলার কাছে পৌঁছিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহিলাকে ধরার ব্যাপারে  কাঁকশা থানা থেকেও অনেক সাহায্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘মহিলা শিশুটিকে চুরি করেছিল  বিক্রী করে দিয়ে মোটা টাকা রোজগারের  উদ্দেশ্যেই। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ কেউ যুক্ত আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি, তাঁদেরও খোঁজ চলানো হচ্ছে। অভিযুক্তকে হেপাজতে নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর চালানো হবে। মহিলার টিআই প্যারেডও করানো হবে ।