রায়গঞ্জ, ৯ অক্টোবরঃ দশমীর রাতে মহিলার শ্লীলতাহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বকুলতলায়। মঙ্গলবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়গঞ্জ থানায় চড়াও হন টিএমসিপি ছাত্রনেতারা। থানায় ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনায় আক্রান্ত হন তিন পুলিশকর্মী। তাঁদের উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। আপাতত তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গতকাল দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে রায়গঞ্জের কুলিক নদী সংলগ্ন বন্দর শ্মশানঘাট ও খরমুজা ঘাটে ভিড় উপচে পড়েছিল। প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে ভিড়ের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এক মহিলা। রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদ করেন ওই মহিলা। এরপর নিজেকে রক্ষা করতে সেখান থেকে চলে যান তিনি। কিছুক্ষণ পর টিএমসিপি ছাত্রপরিষদের সদস্যদের নিয়ে বিবেকানন্দ মোড়ের কাছে পৌঁছান এবং ওই যুবককে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। এরপরই টিএমসিপি কর্মী ও ছাত্রনেতারা ওই যুবকের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত হন বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা। ঘটনায় দলের এক কর্মীকেও আটক করা হয়। এরপরই থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন দলের বহু কর্মী-সদস্যরা। চলে ভাঙচুর। এই বিষয়ে রায়গঞ্জ পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘সন্দেহের বশে ওই যুবককে মারধর করা হচ্ছিল। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে লাঠিচার্জ করা হয়। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এদিকে টিএমসিপির জেলা সভাপতি অনুপ কর বলেন, ‘মহিলাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হয়। ঘটনার প্রতিবাদ করছি। থানায় অভিযোগ দায়ের করব।’ ওই মহিলার পরিবারের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করে এদিন দুপুরে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভের পাশাপাশি যারা ভাঙচুর চালিয়েছে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি তথা রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অনুপ কর বলেন, ‘এক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করার প্রতিবাদ করায় পালটা তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় তাদের বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন।’ পুলিশ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে আন্দোলনের নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।