রায়গঞ্জ, ১৯ অক্টোবর : বউমাকে সুস্থ করে তুলতে শাশুড়ি রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করছেন। এমন কথা ভাবতেই পারেন না নিন্দুকেরা। বাস্তবও তাই। কারণ অধিকাংশ পরিবারে বউমা, শাশুড়ির সম্পর্ক আদায় কাচঁকলায়। সেখানে বউমার চিকিত্সার জন্য গ্রাম থেকে ছুটে এসেছেন শাশুড়ি। মানুষের দ্বারে দ্বারে আর্থিক সাহায্যের জন্য ভিক্ষা করে চলেছেন শাশুড়ি পাবো দাস। বয়স প্রায় ৬৫। বাড়ি ইটাহারের সুরনের দাস পাড়ায়।

কিডনিজনিত অসুখের কারণে বউমা সুমতি দাস প্রায় মাসখানেক ধরে অসুস্থ। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও পূর্ণিয়ায় চিকিত্সার পর আর্থিক দুরবস্থার কারণে চিকিত্সা এখন বন্ধ। ইতিমধ্যে ১০কাঠা জমি বন্ধক রেখে বউমার চিকিত্সার জন্য ২৫ হাজার টাকা ধার করেছেন। কিন্ত এদিক, ওদিক চিকিত্সা করতেই টাকা শেষ। কিন্ত বউমাকে সুস্থ করে তুলতে হবে। সেকারণে আর্থিক সাহায্যের  জন্য ভিক্ষা করতে নেমেছেন পাবোদেবী।

পাবোদেবী জানান, বউমার কিছু হয়ে গেলে পরিবারটা ধ্বংস হয়ে যাবে। ৬ বছরের দুটি যমজ সন্তান আছে। সুমতির স্বামী শক্তি দাস দিনমজুরির কাজ করেন। যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে কোনো মতে সংসার চলে। চিকিত্সার খরচ জোগানো কোনো মতেই সম্ভব নয়। তাই বউমার চিকিত্সার ভার তুলে নিয়েছেন তিনি। পাবোদেবীর চার ছেলের মধ্যে তৃতীয় ছেলে শক্তি। তার কাছেই থাকেন পাবোদেবী ও তাঁর স্বামী মাধব দাস। বাড়ির আর্থিক অনটনের জন্য পাবোদেবী রায়গঞ্জের কাশিবাটী, রায়পুর মিলন মন্দিরে দীর্ঘদিন কাজ করতেন। সেখানেই থাকতেন। কিন্ত বউমার অসুস্থতার জন্য বাড়ি ফিরে এসেছেন। এই এলাকায় তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। গত শুক্রবার কাশিবাটীতে এসেছেন। শনিবার সকালে পাবোদেবী গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসুস্থ বউমার  চিকিত্সার নথি দেখিয়ে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানান। কাশিবাটী-রায়পুর এলাকার কয়েকজন সমাজকর্মী প্রণব দেবনাথ, অচিন্ত্য দেব সহ অন্যান্যরা এদিন বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ান। আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। প্রণববাবু বলেন,পাবোদেবীকে আমরা সকলেই চিনি এবং জানি। তিনি নিজেও অসুস্থ। কিন্ত বউমাকে সুস্থ করতে নিজে ভিক্ষা করছেন। সত্যি এমন ভাবা যায় না। তাই আমরা এলাকার মানুষের কাছে পাবোদেবীকে সাধ্যমতো সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছি।