জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যু মায়ের, গুরুতর জখম ছেলে

1333

বর্ধমান: পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল মায়ের। গুরুতর জখম হয়েছেন ছেলে। শনিবার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসির পুরসা এলাকায় ২ নম্বর জাতীয় সড়কে। মৃতার নাম আজমিরা বেগম (৫০)। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর ছেলে শেখ রাজীবকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। মৃত ও জখমদের বাড়ি আউসগ্রাম থানার এড়াল গ্রামে।

দুর্ঘটনার পরেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় সড়কের পুরসা ক্রশিংয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এলাকার বাসিন্দারা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তার জেরে জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল থমকে যায়। পুলিশ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলে আধঘণ্টা বাদে অবরোধ ওঠে। মৃত মহিলার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

- Advertisement -

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে একটি বাইকে চড়ে মা ও ছেলে এদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হন। তাঁরা গলসির পুরসা যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী শেখ লালন বলেন, ‘২ নম্বর জাতীয় সড়কে গলসির পুরসার মাঝের পুলের ক্রশিংয়ের কাছে আচমকা একটি চারচাকা গাড়ি বাইক আরোহীদের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় আজমিরা বেগমের। গুরুতর জখম হয়ে সড়কপথে পড়ে থাকেন বাইকের চালক শেখ রাজীব। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ও স্থানীয় মানুষজন রাজীবকে উদ্ধার করে বর্ধমান হাসপাতালে পাঠায়।

এলাকার মানুষজন এদিন পুলিশকে অভিযোগে জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাতীয় সড়কের পাশে লাইন দিয়ে লরি ও ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখে অন্যত্র চলে যান চালকরা। রাস্তার পাশে এই ভাবে ট্রাক ও লরি দাঁড়িয়ে থাকার জন্য নিত্যদিন গলসিতে দুর্ঘটনা ঘটছে। বেপরোয়া যান যলাচল নিয়ন্ত্রণে পুরসা ক্রশিংয়ে ব্যারিকেড ব্যবস্থা করার দাবিও এদিন পুলিশকে জানান গ্রামবাসীরা। এদিনের দুর্ঘটনার পর গ্রামবাসীরা মাইকিং করে জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড় করিয়ে রাখা ট্রাক ও লরি সরানোর আবেদন জানান। ওই সব গাড়ি সরাতে এরপর পুলিশও কড়া ভূমিকায় পথে নামে।