তিন মাসেও স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট মেলেনি

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : একা হাঁটাচলা করতে পারেন না। বাতের ব্যথায় কাবু। তবুও স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট নিতে প্রায় তিন মাস ধরে রায়গঞ্জ পুরসভা, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ, রায়গঞ্জ থানা সহ ব্লক প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন ৭০ বছরের বৃদ্ধা। কিন্তু সেই সার্টিফিকেট এখনও মেলেনি। ফলে আগামী বছর অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী স্বামীর পেনশন পাবেন কি না তা নিয়ে সন্দিহান ওই বৃদ্ধা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন রায়গঞ্জের বিডিও।

রায়গঞ্জ শহরের মিলনপাড়ার বাসিন্দা বাসনা ভট্টাচার্য। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী তথা রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী সুভাষচন্দ্র ভট্টাচার্যের। সেইদিনই মৃতদেহ ময়নাতদন্ত হয় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পুলিশ মর্গে। স্বামীর মৃত্যুর প্রায় তিন মাস হয়ে গেলেও এখনও তিনি স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্র পাননি। সেই শংসাপত্র পেতে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গেলে সেখান থেকে বলা হচ্ছে রায়গঞ্জ পুরসভা থেকেই ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। আবার পুরসভায় গেলে বলা হচ্ছে থানায় যোগাযোগ করতে। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে এখনও পর্যন্ত স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট মেলেনি। পেনশনভোগীদের পেনশন চালু রাখতে প্রতিবছর নভেম্বর মাসে ব্যাংকে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়।

- Advertisement -

ফলে স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট এই মাসের মধ্যে জমা দেওয়া একান্তই জরুরি। না হলে আগামী বছর পেনশন বন্ধ হয়ে যাবে। বাসনা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ওয়ার্ড মাস্টারকে বলা হলে তিনি বলেন, পুরসভা থেকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এখান থেকে দেওয়া হয় না। পুরসভার গেলে সেখান থেকে বলা হয়, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সেখান থেকেই দেওয়া হবে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ব্লক প্রশাসনের দরজায় ঘুরেও এখনও পর্যন্ত মেলেনি স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্র। এমন পরিস্থিতিতে কী করব বুঝে উঠতে পারছি না। চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে আমাকে। রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ অথবা পুরসভা থেকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা। কেন তিনি সেই সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না, তা খোঁজ নিয়ে দেখব।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার স্বামী সুভাষচন্দ্র ভট্টাচার্য বিএসএফের উচ্চপদস্থ অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী পদে নিযুক্ত হন। চলতি বছরের ১৮ তারিখ সকালে ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই হাসপাতাল, পুরসভা এবং রায়গঞ্জ থানায় ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁর স্ত্রী বাসনা ভট্টাচার্য। এদিন হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ৭০ বছরের বৃদ্ধা বাসনা ভট্টাচার্য বলেন, আমার স্বামী দেশের জন্য লড়াই করেছেন। স্বামীর মৃত্যুর প্রায় তিন মাস হয়ে গেল এখনও পর্যন্ত ডেথ সার্টিফিকেট পেলাম না। জানি না আগামী বছর পেনশন পাব কি না। রায়গঞ্জ পুরসভার উপপুরপ্রধান অরিন্দম সরকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুত ওই বৃদ্ধাকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।