আত্রেয়ী নদীতে ঝাঁপ যুবতীর, পরে উদ্ধার

253

বালুরঘাট: এক যুবতীর ভরা আত্রেয়ী নদীতে ঝাঁপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নাজেহাল হতে হল এলাকাবাসীর। সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে বালুরঘাটের রঘুনাথপুর এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। পরে কিছুক্ষণ পর অবশ্য তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবতী বালুরঘাট ব্লকের বোয়ালদার গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁর চিকিৎসা চলছে।

- Advertisement -

রঘুনাথপুর এলাকার খেয়াঘাটে নৌকার মাঝি সরলা দাস জানান, যাত্রী না থাকায় নৌকা পাড়ে বেঁধে আমি উপরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ওই যুবতী গিয়ে প্রথমে নৌকোয় বসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকো থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। দেখা মাত্রই আমরা তিনজন মিলে কাছে যেতেই তিনি ডুব দিয়ে জলের মধ্যে দিয়ে যেতে থাকেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল তিনি সাঁতার জানেন।

এই বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী নিতাই দাস জানান, আজ দুপুরে ওই যুবতী প্রথমে রঘুনাথপুর এলাকার জাতীয় সড়কে লরির সামনে দাঁড়িয়ে নানা ধরনের অঙ্গিভঙ্গি করতে থাকে। এরপরই আত্রেয়ী নদীতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নৌকো থেকে নদীতে লাফ দেন। বিষয়টি নজরে আসতেই নৌকার মাঝি সহ আমরা তাঁকে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছিল সে সাঁতার জানে। কিন্তু ভরা নদী ও স্রোতের কারণে সকলেই তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কায় ভীত ছিলাম। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। যুবতীর উদ্ধারকার্যের উদ্দেশ্যে আসে উদ্ধারকারী দল। জানা গিয়েছে, যুবতীকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলে তিনি ডুব দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অবশেষে বিকেলের দিকে তাঁকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে খাসপুর গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে তাঁকে সুরক্ষিতভাবে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে ডিএসপি সদর হেডকোয়ার্টার ধীমান মিত্র জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবতী নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর তাঁকে খোঁজার জন্য পুলিশের তরফে জোর তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘক্ষণ পর তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কী কারণে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিলেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।