মধ্যযুগীয় বর্বরতা, আদিবাসী মহিলাকে নগ্ন করে মারধরে ধৃত ৩

157

কুমারগ্রাম: সালিশির নামে এক আদিবাসী মহিলাকে নগ্ন করে মারধরের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী কয়েকজন মাতব্বরের বিরুদ্ধে। কুমারগ্রাম ব্লকের খোয়ারডাঙ্গা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম চ্যাংমারি এলাকার ঘটনা। শুধু মারধরই নয়, মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত ওই ঘটনা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে কেউ বা কারা। রবিবার ওই ভিডিও ক্লিপটি ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, ঘটনার পর নিখোঁজ হয়ে যান ওই মহিলা। তবে ভাইরাল ভিডিও দেখে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ঘটনার খোঁজখবর নিতে শুরু করে পুলিশ। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে জানিয়েছেন, ভিডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাই করা হবে। পুলিশ তদন্তে নেমে ওই মহিলাকে উদ্ধার করেছে। ঘটনায় ভবেশ কুজুর, দীপন টোপ্পো ও সুজিত লাকড়া নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আলিপুরদুয়ার এসিজেএম আদালতে পেশ করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

- Advertisement -

স্থানীয়দের অনেকেরই দাবি, ওই মহিলার বিবাহবহির্ভত সম্পর্ক রয়েছে। মাস ছয়েক আগে তিনি প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েন মহিলার স্বামী। পরবর্তীতে প্রেমিক মহিলাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। নিরুপায় হয়ে মহিলা বাপেরবাড়িতে গিয়ে ওঠেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী বাপেরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। এরপরই ঘটে বিপত্তি। আদিবাসী সমাজের কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি নিয়ে সালিশি সভা ডাকেন। অভিযোগ, ওই সালিশি সভায় মহিলাকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি মারধর করা হয়। এরপর নগ্ন অবস্থায় তাঁকে রাতের অন্ধকারে গ্রামছাড়া করে ওই মাতব্বররা।

গ্রামে সালিশি সভার আয়োজন করা হলেও তা জানতেন না বলে দাবি করেছেন এলাকার নেতারাও। তৃণমূল কংগ্রেসের কুমারগ্রাম ব্লক সভাপতি ধীরেশচন্দ্র রায় বলেন, ‘অত্যন্ত গোপনে সালিশি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য এবং দলীয় কর্মীদের মুখে শুনলাম। ভাইরাল ভিডিও ক্লিপটিও দেখেছি। তাঁর সংযোজন, সভ্য সমাজে নির্লজ্জের মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলছে। বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ধরনের অমানবিক আচরণ দল মেনে নেবে না। অভিযুক্তরা যে দলেরই লোক হোন না কেন, শাস্তি পাবেই। পুলিশ প্রশাসন দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক, সেটাই আমরা চাই।’