সরকারি সহাতায় নার্সারি চালিয়ে স্বনির্ভর হচ্ছে মহিলারা

568

শিবশঙ্কর সূত্রধর, কোচবিহার: সরকারি সহযোগিতায় কোচবিহার ২ পঞ্চায়েত সমিতির কার্যালয়ের সামনে নার্সারি তৈরি করে লাভের মুখ দেখছেন গ্রামের মহিলারা। সরকারি উদ্যোগেই প্রশিক্ষণ ও সরকার সহায়তায় ঋণ পাওয়ার পরে নিজেরাই নার্সারি তৈরি করেছে বলাকা নামে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। সেখান থেকে চারাগাছ বিক্রি করে রোজগার করছেন তাঁরা। জেলাশাসক পবন কাদিয়ান বলেন, ওই নার্সারিতে প্রায় ১৫ হাজার চারা গাছ রয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নিজস্ব জমি না থাকায় পঞ্চায়েত সমিতির তরফে জমি সরবরাহ করা হয়েছিল। সেখানে নার্সারি গড়ে তুলেছেন তাঁরা।

মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতে প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহিলাদের ছোট ছোট দল তৈরির পর তাঁদের ঋণ প্রদান করে রোজগারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। কোনও দল হস্তশিল্পের কাজ আবার কেউ খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে সেগুলি বিক্রি করে রোজগার করেন। কোচবিহার ২ ব্লকের পুন্ডিবাড়ির বলাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠী নার্সারি তৈরি করে গাছের চারার ব্যবসার পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু জমি নিয়ে সমস্যা বাঁধে। নার্সারি তৈরির পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় গত বছর স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির তরফে জমি দেওয়া হয়। শর্ত, বিনিময়ে ব্যবসার লাভের একটি অংশ পঞ্চায়েত সমিতিকে দিতে হবে।

- Advertisement -

শর্তমেনে প্রথম পর্যায়ে, ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নার্সারি চালু করেছিলেন। এখন লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা। বেসরকারি ভাবে চারা গাছ বিক্রির পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসুচি অনুষ্ঠানে চারাগাছ সরবরাহ করা হয়। শাল, সেগুন, সুপারি, পেয়ারা, মেহগনি, অ্যালোভেরা সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুলের গাছ রয়েছে সেখানে।

ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠীটিতে ১২ জন মহিলা আছেন। তাঁরাই নিয়মিত চারাগাছের দেখভাল করেন। তাঁদের সম্পাদিকা পূর্ণিমা সেন বলেন, অনেক চারাগাছ আমরা বিক্রি করেছি। এখনও প্রচুর চারা রয়েছে। চাহিদাও খুব ভালো। ভালো আয় হচ্ছে।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দায়িত্বে থাকা কোচবিহার ২ ব্লকের এক আধিকারিক শিখা সরকার বলেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার চারাগাছ বিক্রি হয়েছে। ধীরে ধীরে বিক্রিও বাড়ছে। চাহিদা বেশি থাকায় আরও একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কোচবিহার ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোপাল সরকার বলেন, এটি খুব ভালো উদ্যোগ। সরকারিভাবে ওই মহিলাদের গাছের চারা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এখন তাঁরা নিযমিত কাজ করছেন। আয়ও করছেন।