একই কাজে পুরুষের অর্ধেক মজুরি মহিলাদের

74

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : কৃষিবলয় হিসেবে পরিচিত হলদিবাড়ি ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করছেন মহিলারা। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই কাজের বিনিময়ে ভাগ্যে জুটছে অর্ধেক মজুরি।অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৈষম্য চললেও কোনও প্রতিবাদ নেই। সাহস করে কেউ যদি প্রতিবাদ করেও ফেলেন, তবে পরদিন থেকে আর কাজে ডাকে না মালিকপক্ষ। তাই কাজ হারানোর ভয়ে প্রতিবাদ না করে অর্ধেক বেতনেই কাজ করছেন ওই মহিলা শ্রমিকরা।

সীমান্তবর্তী হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গিয়ে দেখা গেল বোরো ধান ঝাড়ার কাজ করছেন মহিলা শ্রমিকরা। পুরুষদের সঙ্গে সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পরও এসব মহিলা শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে হচ্ছে অর্ধেক বেতন নিয়ে। হলদিবাড়ি ব্লকে কৃষিজমিতে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিনমজুরি করছেন শত শত নারী। খেতে চারা রোপণ, পরিচর্যা, ফসলের গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া এবং খেত থেকে ফসল তোলা, ঝাড়া সহ সব ধরনের কাজ নারীরা পুরুষের সঙ্গে সমানভাবেই করে যাচ্ছেন। তাই মজুরি বৈষম্যের অবসানের দাবি উঠেছে তাঁদের মনে।

- Advertisement -

বোরো ধান ঝাড়ার কাজে কর্মরত ফিরোজা খাতুন, আমিনা বেগম, সবিতা রায়, রত্না বর্মন সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, তাঁরা দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে যেসব পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করছেন, দিনশেষে ওঁরা মজুরি পাচ্ছেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। পুরুষ শ্রমিকরা সেকথা স্বীকার করেও নিয়েছেন। বেতন বৈষম্যের ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিকের বক্তব্য, মহিলা শ্রমিকদের দিয়ে পুরুষদের মতো ভারী কাজগুলো করানো হয় না। ওঁরা শুধু খেতে আগাছা পরিষ্কার, ফসল বোনা, ফসল তোলার মতো হালকা কাজগুলো করেন। এরকম হালকা কাজের জন্য পুরুষদের সমান মজুরি দিলে কোনওভাবেই পুষিয়ে উঠতে পারা যাবে না।

এ ব্যাপারে অল ইন্ডিয়া কিষান খেতমজদুরের লোকাল কমিটির সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সরকার বলেন, যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের বিষয়টি সংবিধানে স্বীকৃত সেখানে নারী শ্রমিকদের এই বেতন বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না।