ডাকঘরে অ্যাকাউন্ট খুলতে রাত জাগছেন বাসিন্দারা

265

পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট : বালুরঘাটের প্রধান ডাকঘরে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য রাস্তায় রাত জাগছেন বালুরঘাটের একাধিক বাসিন্দা। একমাত্র প্রধান ডাকঘরে অ্যাকাউন্ট খুললেই মিলবে মহিলাদের জন্য উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্যাসের টাকা ও কৃষক ভাতা। এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই অ্যাকাউন্ট খোলার তাগিদে রাতেই এসে ডাকঘরে সামনে উপস্থিত হচ্ছেন বাসিন্দারা। ডাকঘরের তরফে প্রতিদিন কুড়ি জনের বেশি অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে না। তাই প্রথম কুড়ি জনের মধ্যে থাকতেই রাত থেকেই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন তাঁরা।

কয়েকদিন ধরেই বালুরঘাটের প্রধান ডাকঘরের সামনে দোকানের ছাউনির নীচে রাত কাটাতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষদের। অনেকেই রাতে রাস্তায় বসে রয়েছেন। আবার কেউ দিব্যি মশারি খাটিয়ে শুয়ে থাকছেন রাতভর। অন্যদিকে, লকডাউনের জেরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রতিদিন ২০ জনের বেশি মানুষের অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে না। সকাল ১০টা নাগাদ যে আগে আসবেন তাঁদের মধ্যে প্রথম ২০জনকে কুপন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই কুপন সংগ্রহ করা ব্যক্তিরাই একমাত্র অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। যার জেরেই ভিড় বাড়ছে।

- Advertisement -

ডাকঘরে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য রাত জেগে লাইন দেওয়া ভাটপাড়া গ্রামের এক মহিলা অর্চনা বর্মন বলেন, শুনেছি এই ডাকঘরে অ্যাকাউন্ট খুললে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্পের আওতায় টাকা মিলবে। গ্রামের অনেকেই এসে অ্যাকাউন্ট খুলে গিয়েছে। এর আগে একদিন রাত ১২টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার কুপন মেলেনি। তাই পরেরদিনই সন্ধ্যায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার কুপন পেয়েছি।  যদিও প্রধান ডাকঘর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ইন্ডিয়ান পোস্ট পেমেন্ট ব্যাংকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই শূন্য অঙ্কের খাতা খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেখানে পরবর্তীতে ১০০ টাকা নূন্যতম রাখার নির্দেশিকা রয়েছে। দশ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে যে কোনও ভারতীয় নাগরিক আধার কার্ড সমেত ডাকঘরে এলে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। দশ বছরের নীচে অ্যাকাউন্ট খোলা হয় না। কারণ, তাঁদের আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া যায় না। অ্যাকাউন্ট খোলা নিয়ে ভিড় করা বা রাত জাগার কোনও কারণ নেই। অতিরিক্ত ভিড় এড়ানোর জন্য প্রতিদিন কুড়ি জনের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এইসব অ্যাকাউন্টে মূলত কৃষকদের জন্য সরকারি টাকা ও উজ্জ্বলা গ্যাস প্রকল্পে মহিলাদের ভরতুকি ঢুকে থাকে।

এই বিষয়ে বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, যখন কেন্দ্র সরকারের কোনও প্রকল্প ঘোষণা করা হয়, তখন জনগণকে সঠিক উপায় জানিয়ে প্রকল্প ঘোষিত হয়। যে কোনও পোস্ট অফিসেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এভাবে গুজবে কান দেওয়া উচিত না। জেলা পোস্ট অফিসের সুপারিন্টেন্ডেন্ট রাজীব রঞ্জন বলেন, আমাদের এখানে আগের মতোই নতুন গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতে ভবিষ্যতে কী সুবিধা পাওয়া যাবে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে আমাদের অফিসে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করা হয়। এর বাইরে অন্য কোনও সময়ে কেউ আসছে কিনা তা বলতে পারব না।