জীবন্ত মা লক্ষ্মীদের স্থান এখন স্টেশনে

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি : একসময় তাঁদের বাড়িতেও মা লক্ষ্মীর পুজো হত। এখন শুধুই স্মৃতিতে রয়ে গিয়েছে সেই সমস্ত দিনের কথা। রবিবার যখন বাঙালির ঘরে ঘরে কোজাগরি লক্ষ্মীপুজো হচ্ছে তখন মন্দির, রাস্তা, বাসস্ট্যান্ডে খাবারের সন্ধানে ঘুরছেন জীবন্ত লক্ষ্মীরা। আপনজনদের অবহেলার কারণে বিহার, অসম, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁরা শিলিগুড়িতে এসেছেন। তাঁদের কারও বয়স সত্তর পেরিয়েছে। আবার কারও বয়স আশি ছুঁইছুঁই। কোনো আস্তানা না থাকায় শেষ ঠিকানা হয়েছে শিলিগুড়ি জংশন রেলস্টেশন। সেখানে থেকেই প্রতিদিন জীবনযুদ্ধ চলছে। স্টেশন থেকে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করেন তাঁরা। তবে সারাদিন ভিক্ষা করেও বেশিরভাগ দিন ভরপেট খাবার জোটে না। অর্ধাহারেই সারারাত কাটিয়ে দিতে হয়। এভাবেই দিনের পর দিন কাটছে।

নিজের বাড়ির কথা জানালেন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা প্রমীলা বালা। তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুজো মানেই নিজের হাতে পুজোর সমস্ত জিনিসের জোগাড় করা। লক্ষ্মীপুজো এলে এখনও সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। বাড়ির লোকের অত্যাচারে দশ বছর ধরে শিলিগুড়ি জংশনে রয়েছি। যখন যা পাই তা খেয়ে দিন কাটছে। কোচবিহারের বাসিন্দা রানিবালা বলেন, পুজোর সময় বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে। কিন্তু উপায় নেই। সেখানে গেলেই অত্যাচার হবে। তাই স্টেশনের মেঝেতে ঠাঁই নিয়েছি। এখন বয়স এতটাই যে, মাঝেমধ্যে স্টেশনের বাইরে বেরোতে পারি না। বাকিরা ভিক্ষা করে যা আনে, তা দিলে খাই। না হলে না খেয়ে শুয়ে পড়ি। স্টেশনে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নিয়ে কাজ করে, এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য অভিজিৎ দাস বলেন, দিনদিন স্টেশনে বয়স্ক লোকের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন সবার খাবার জোগাড় করা সম্ভব নয়। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তাঁরা য়ে কোনো সময় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এই বয়স্ক মানুষদের জন্য থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে খুবই ভালো হত।

- Advertisement -