অধরা কাঠ মাফিয়ারা, মাথার ওপর কে? প্রশ্ন জনমানসে

310

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া এলাকায় বন দপ্তরের কর্মী আর কাঠ মাফিয়াদের মধ্যে যেন ‘চোর পুলিশ’ খেলা চলছে। সন্ধ্যা হলেই কাঠ পাচারে নেমে পড়ছে মাফিয়ারা। এদিকে বন কর্মীরাও লেগে রয়েছেন কাঠ মাফিয়াদের পিছনে। কাঠ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছ। কাঠ পাচারে ব্যবহৃত গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাচারকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, কাঠ মাফিয়াদের মাথার ওপর কাদের হাত রয়েছে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়।

বৃহস্পতিবার রাতেই বীরপাড়া এলাকায় কাঠ পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিল বন দপ্তর। বন দপ্তরের জলপাইগুড়ি ডিভিশনের দলগাঁও রেঞ্জের কর্মীরা অভিযান চালিয়ে কাঠ সহ দু’টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেন। গতকাল দু’টি পৃথক অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুই ডেপুটি রেঞ্জার প্রীতম রায় ও প্রকাশ থাপা। দলগাঁওয়ের রেঞ্জার দোরজি শেরপা বলেন, ‘অভিযানে প্রায় দুই লক্ষ টাকার বেআইনি কাঠ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দু’টি গাড়ি। কোনওটিতেই নম্বরপ্লেট ছিল না। তবে পাচারের সঙ্গে জড়িতদের ধরা সম্ভব হয়নি।’

- Advertisement -

দলগাঁও রেঞ্জ সূত্রের খবর, গতকাল রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে দিয়ে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন ছোট মালবাহী গাড়ি মাদারিহাটের দিকে যাচ্ছিল। সেইসময় গাড়িটিকে আটক করা হয়। সেটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় পঁচিশ সিএফটি সেগুন কাঠ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, রাত ন’টা নাগাদ দলমোর চা বাগান লাগোয়া পাগলি নদী ঘেঁষা বাজারের কাছে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন ছোট যাত্রীবাহী গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেগুন গাছের পাঁচটি গুঁড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দলগাঁও রেঞ্জের কর্মীদের অভিযানে লাগাতার বাজেয়াপ্ত হচ্ছে গাড়ি ও বেআইনি কাঠ। গাড়িগুলির বেশিরভাগেরই নম্বরপ্লেট মিলছে না। বীরপাড়ার রবীন্দ্রনগরের এক যুবক বলেন, ‘প্রতিদিন ভোরবেলা ঠেলাভ্যানে কাঠ চাপিয়ে পাচারের দৃশ্য দেখা যায় বীরপাড়া লঙ্কাপাড়া রোডে। তবে ওই সময় বনকর্মীদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না।’ বীরপাড়ার অনেকেরই অভিযোগ, এক বা একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত রয়েছে কাঠ মাফিয়াদের মাথার ওপর। তাই পাচারকারীদের টিকি ছোঁয়ার সাহস পাননা বন কর্মীরা। গত ১২ জুলাই রাতে দলমোর চা বাগানের কাছে একটি বেআইনি গাড়ি আটকানোয় বন কর্মীদের দিকেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে তেড়ে যায় কাঠ মাফিয়ারা। বাধ্য হয়ে শূন্যে গুলি ছোঁড়েন বন কর্মীরা। সেপ্টেম্বর মাসে বীরপাড়া থেকে বাংলাদেশে কাঠ পাচারের চক্রের খবর উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশের পর বনকর্মী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সরুগাঁওবস্তি থেকে বমাল গ্রেপ্তার করে দুই পাচারকারীকে। অগাস্ট মাসে গারুচিরা থেকে দুই ও জুলাই মাসে বান্দাপানি থেকে কাঠ পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই বিষয়ে জলপাইগুড়ির অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, ‘কারও প্রভাব খাটানোর প্রশ্ন নেই। গাড়ি, কাঠ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। পাচারকারীদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। যারা পালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।’