নকশালবাড়ি : নকশালবাড়ি ব্লকের  মেরিভিউ চা বাগান এলাকার ঘরে ঘরে চলছে অবৈধ  কাঠ চেরাইয়ের কারবার চলছে। অভিযোগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে শাল, সেগুনের মতো মূল্যবান গাছগুলি চুরি করে এই এলাকায় চেরাই করা হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলি ছোটো গাড়িতে  করে রাতের অন্ধকারে বিহারে পাচার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চা বাগান লাগোয়া ছোট রাস্তাগুলিকে পাচারের করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেরিভিউ চা বাগান থেকে অটল বাজার হয়ে পাহাড়গুমিয়া এবং ইউসিসি জঙ্গলের পাশ দিয়ে ঘোষপুকুরে বিহারের সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলিতে এই কাঠ মজুত রাখা হয়। সেখান থেকে সেগুলি বিহার পাচার করা হচ্ছে। কার্সিয়াংয়ের ডিএফও শেখ ফরিদ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বাগডোগরার রেঞ্জ অফিসার সমীরণ রাজ বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগে আমরা ওই এলাকা থেকে চোরাই কাঠ উদ্ধার করেছি। নতুন কোনো অভিযোগ পাইনি।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধানমন্ত্রী গ্রামসড়ক যোজনায় তৈরি এই চকচকে গ্রামীণ রাস্তাগুলিতে বন দপ্তর কিংবা পুলিশের পাহারাদারিও সেভাবে দেখা যায় না। ফলে কাঠ মাফিয়াদের কাছে জঙ্গল লাগোয়া এই রাস্তাগুলি কাঠপাচারের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সবকিছুই চলছে স্থানীয় বন দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়ায়।

বাগডোগরা বনাঞ্চলের ৫০০ মিটার দূরেই মেরিভিউ চা বাগান। সেখানে দিনের আলোতে ঘরে ঘরে শাল, সেগুন, চিলাউনির মতো মূল্যবান গাছগুলির চেরাই হচ্ছে। অভিযোগ, দীর্ঘ ন ধরেই জঙ্গল লাগোয়া এই চা বাগান কাঠ মাফিয়াদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। রাতের অন্ধকারে জঙ্গল থেকে মূল্যবান গাছগুলি কেটে এখানে চেরাই করা হয়। তারপর সাইকেল অথবা ছোট গাড়িতে করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়। বিষয়টিতে স্থানীয় বনসুরক্ষা কমিটি এবং বনকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই এলাকার একপাশে রয়েছে কিরণচন্দ্র চা বাগান, দলকা ফরেস্ট এবং অন্য দিকে রয়েছে ইউসিসি ফরেস্ট, চেঙা ও মানঝার মতো নদী। এলাকার স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তথা বনসুরক্ষা কমিটির সদস্য তুফান মল্লিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় অবৈধভাবে কাঠ চেরাইয়ের ব্যবসা চলছে। বনকর্মীদের এই বিষয়টি জানা থাকলেও কোনো পদক্ষেপ করে না। মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হয়, কিন্তু সেটি লোকদেখানো মাত্র। এখানে যতগুলি পরিবার রয়েছে সকলেই চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করেন। স্বল্প মজুরি দিয়ে সংসার চালাতে হয় তাদের। এক্ষেত্রে এলাকার কয়েকজন যুবক মিলে জঙ্গলে গেলেই কম পরিশ্রমে অনেক বেশি টাকা উপার্জন করে ফেলে। তাই এই লোভই গ্রামবাসীদের কাঠ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছে।’ এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র হাজিরার বদলে এখানে কাজ করি। মালিকরা লাইন মিলিয়ে রাখে এবং তাদের নির্দেশ অনুসার আমরা কাজ করি।’

ছবি- এভাবেই হাত চেরাই কল বসেছে চা বাগানের ঘরে ঘরে।

তথ্য ও ছবি- মহম্মদ হাসিম