জলপাইগুড়ি : কাঠের তৈরি খেলনা ট্রাকের মাথায় দড়ি বেঁধে কচিকাঁচাদের পাড়া ঘুরে বেড়ানোর চিত্র এখন স্মৃতির খাতায়। রিমোট কনট্রোলের গাড়ি আর হেলিকপ্টার এখন তার জায়গা নিয়েছে। শুধু অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক খেলনাই নয়, এখন স্মার্টফোনের বিভিন্ন আকর্ষণীয় গেম শিশু মনের অনেকটাই দখল করে নিয়েছে। যার ফলে এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে কাঠের তৈরি খেলনা গাড়ি।

বদলেছে যুগ। সেই সঙ্গে বদলে গিয়েছে মানুষের রুচি এবং চাহিদাও। একটা সময় ছিল যখন শৈশবের খেলনা বলতে কাঠের তৈরি ট্রাক, লম্বা লাঠি লাগানো হেলিকপ্টার, মাটির চাকা দেওযা টমটম গাড়ি, তালপাতার সেপাই সহ আরও অনেক কিছু বোঝাত। আর এই ধরনের খেলনা মূলত বিভিন্ন মেলাতে পাওযা যেত। এই ধরনের খেলনা কেনার জন্য বছরে একবার করে হওয়া স্থানীয় মেলার দিকে চেয়ে থাকত ছোটোরাও। বাংলার শিল্পীদের হাতের তৈরি খেলনা এখন শুধুই স্মৃতি। অন্য সমস্ত ধরনের খেলনা সেভাবে চোখে না পড়লেও এখনও মেলাগুলিতে দেখা যায় কাঠের তৈরি রংবেরংয়ে গাড়ি এবং হেলিকপ্টার। তবে চাহিদা কমে যাওযায় সেই খেলনাগুলিও বিলুপ্তির পথে। জানা গিয়েছে, একমাত্র ময়নাগুড়ি ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা হাতে গোনা কয়েজন এখনও তাঁদের পুরোনো পেশাকে আকড়ে ধরে রেখে কাঠের গাড়ি বানাচ্ছেন। অনেকে আবার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের ব্যবসাও বদলে ফেলেছেন। একটা সময় জলপাইগুড়ির ঐতিহ্য মনসাপুজোর মেলায় দেখা মিলত এই ধরনের কাঠের গাড়ি তৈরির দোকানের। এবছরের মেলায় সব মিলিয়ে দু-তিনটি এই ধরনের দোকান দেখা গেল। তাদেরও আবার অনেকে চাহিদা অনুযাযী কাঠের গাড়ির পাশাপাশি প্লাস্টিকের গাড়িও রাখছেন। মেলায় আসা ময়নাগুড়ি এলাকার বাসিন্দা নীরোদ বিশ্বাস বলেন, কাঠের গাড়ির ব্যবসা এখন আর আগের মতো নেই। গাড়ি তৈরির জন্য আগের মতো ভালো কাঠও পাওযা যায় না। য়ে ধরনের কাঠ দিয়ে এখন গাড়ি তৈরি করতে হয় তার দাম অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবে গাড়ির দামও অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায়। এখন কম দামে প্লাস্টিকের খেলনা মিলছে। য়ে কারণে বাচ্চাদের আকর্ষণও সেই দিকেই।

মেলায় আসা অপর ব্যবসায়ী প্রদীপ মণ্ডল বলেন, আমি দশ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। কাঠের গাড়ি তৈরি করে বিক্রি করা আমাদের পৈতৃক ব্যবসা। ব্যবসা নির্ভর করে মানুষের চাহিদার ওপর। এখন মানুষ আধুনিক ডিজাইনের খেলনা বেশি পছন্দ করেন। তাই কাঠের গাড়ির পাশাপাশি চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক খেলনাও রাখতে হচ্ছে। মেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, মনসাপুজোর মেলায় অনেক দোকানদারই আছেন, যাঁদের একসময় কাঠের গাড়ির ব্যবসা ছিল। ওই সমস্ত সামগ্রীর চাহিদা কমে যাওযায় তাঁরা ব্যবসার ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। এভাবেই গ্রামবাংলা থেকে একসময় কাঠের গাড়ি হারিয়ে যাবে, মনে করছেন নির্মাতারা।