লকডাউনের জেরে কাজ প্রায় বন্ধ, চার বেহাল সেতু নিয়ে উদ্বেগ

80

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে ইয়াস। গত কয়েকদিন আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতও হয়েছে। এই অবস্থায় ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ারের মধ্যে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লকডাউনের জেরে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি নির্মীয়মাণ মহাসড়কের একাধিক সেতুর কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক সংকটে রাস্তার কাজও ঢিমেতালে চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভারী বৃষ্টি হলে জেলা সদরের সঙ্গে ফালাকাটার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। আর তা হলে করোনা পরিস্থিতিতে জরুরি পরিষেবাগুলি বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তপসিখাতা কোভিড হাসপাতাল ও শিলতোর্ষা কোভিড কেয়ার ইউনিট এই রাস্তার পাশেই অবস্থিত। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেখানে রোগীদের নিয়ে যেতে সমস্যা হবে। এ ছাড়া বর্তমানে রাস্তার যা পরিস্থিতি, তাতেও সমস্যার কথা জানিয়েছেন অ্যাম্বুল্যান্সচালকরা। এদিকে, গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের নর্থবেঙ্গল জোনের টেকনিকাল ম্যানেজার প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, লকডাউনের জন্য কিছু কাজ ধাক্কা খাচ্ছে। তবে পুরোপুরিভাবে রাস্তার কাজ বন্ধ করা হয়নি। আর বৃষ্টির জেরে নদীর জল বাড়ে কি না, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে। সেরকম হলে, জল কমলেই জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে।

- Advertisement -

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার লকডাউন শুরু হওয়ার আগে থেকেই কমার্সিয়াল অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকটের জেরে এই রাস্তায় চলতে থাকা একাধিক সেতুর কাজ থমকে যায়। আর কড়া লকডাউন শুরু হওয়ায় শ্রমিক সংকটও দেখা দেয়। গোটা রাস্তায় একাধিক শ্রমিক ক্যাম্প রয়েছে। তবে এখন ওইসব ক্যাম্পে ৪-৫ জনের বেশি শ্রমিক নেই। সূত্রের খবর, মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার একাধিক ম্যানেজার এবং কর্মীও করোনা সংক্রামিত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কোনও কাজ হচ্ছে না। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টির জেরে অনেক জায়গায় রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। আর রাস্তার থেকেও বেহাল সেতুগুলি নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।

কয়েকমাস আগে ফালাকাটা শহর লাগোয়া দোলং কাঠের সেতুর পাশে ডাইভারশন তৈরির কাজ শুরু হয়। লকডাউনের জেরে সেই কাজ এখন সেভাবে হচ্ছে না। আর ২০১৭ সাল থেকেই এই রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ চরতোর্ষা কাঠের সেতু ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাশে তৈরি হিউমপাইপের ডাইভারশন দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। তবে প্রতি বর্ষায় নদীর জলোচ্ছ্বাসে এই ডাইভারশন ভেঙে যায় ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার। এই চরতোর্ষাতেও পাকা সেতুর কাজ শুরু করেছিল মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখন সেতুর কাজ প্রায় বন্ধ। এ ছাড়া বুড়িতোর্ষা ও সনজয় নদীতেও কাঠের সেতুর পাশে পাকা সেতুর কাজ শুরু হয়। এজন্য বুড়িতোর্ষা সেতুর একাংশ ভেঙে কাজ চলতে থাকে। শুখা মরশুমে জল না থাকায় এই নদীর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু লকডাউনের জেরে এখনও অর্ধসমাপ্ত অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে বুড়িতোর্ষা সেতুর কাজ। স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির জেরে এই নদীতে জল বাড়লেই সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। সনজয় সেতুর পরিস্থিতিও ভালো নয়। বাবুরহাটের অ্যাম্বুল্যান্সচালক পরিমল রায় বলেন, বেহাল রাস্তার কারণে এমনিতেই এখন যাতায়াত করতে আগের থেকে দ্বিগুণ সময় লাগছে। মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। জল বাড়লে হয়তো এই রাস্তা দিয়ে চলাচলই করা যাবে না।