চা বাগানে জলসমস্যা মেটাতে ঝরনার জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু

306

নাগরাকাটা: পানীয় জল সংকটে জেরবার কূর্তি চা বাগানের আপার ডিভিশনে ঝরনার জলকে পরিশ্রুত করে শ্রমিকমহল্লায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হল। ব্লক প্রশাসন ও আজিম প্রেমজি ফিলানট্রেফিক ইনিসিয়েটিভ নামে একটি সংস্থার যৌথ আর্থিক বরাদ্দে তৈরি প্রকল্পটি মঙ্গলবার উদ্বোধন করেন নাগরাকাটার বিডিও স্মৃতা সুব্বা। এর ফলে সেখানে ১৫৩টি পরিবার উপকৃত হবে।

বিডিও বলেন, পরিকল্পনাটি নতুন। পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে অথচ কাছেপিঠে ঝরনার মতো উৎস আছে, এমন স্থানে এটা আশীর্বাদ হিসেবে নেমে আসবে বলেই বিশ্বাস করি। সংশ্লিষ্ট সূত্রেই জানা গিয়েছে, আপাতত ডুয়ার্সের মোট ৪টি চা বাগানকে ওই নয়া ধাঁচের জল প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে এদিন আপার কূর্তির প্রকল্পটি চালু হয়ে গেল। মেটেলি ব্লকের জুরন্তি বাগানের একই রকমের আরেকটি প্রকল্প উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। কাজ চলছে নাগরাকাটার জিতি ও মেটেলির মূর্তি চা বাগানের টপ লাইনে। চারটি বাগান মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার পরিবারের পানীয় জলের সমস্যা মিটবে এতে।

- Advertisement -

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুভাবে ঝরনার জলকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রথমত ঝরনার উৎসমুখে ৬ বাই ৮ ফুটের কাঠামো তৈরি করে তাতে চারকোল, বালি ও নুঁড়ি পাথরের মিশ্রণ রাখা হয়েছে। জল ওই মিশ্রণের ওপর দিয়ে পরিশ্রুত হয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর তা ইউপিভিসি পাইপযোগে সোজা পৌঁছে যাচ্ছে শ্রমিক মহল্লায়। এক্ষেত্রে কাজে লাগানো হচ্ছে জলের সমোচ্চশীলতা ধর্মকে। উঁচু ঢালে অবস্থিত ঝরনা মাধ্যাকর্ষণের নিয়ম মেনে পাইপযোগে নীচু ঢালের এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে।

কূর্তির মুন্ডা বস্তীর শ্রমিক মহল্লায় পাইপে করে আসা ওই জল সংরক্ষণের জন্য একটি জলাধারও তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্থানে স্থানে তৈরি করা হয়েছে জলের স্ট্যান্ড পোস্টও। প্রকল্পটির কারিগরী সহায়তা প্রদানকারী প্রসারী নামে একটি সংস্থার উত্তরবঙ্গের টিম লিডার পীযুষ জানা বলেন, এরফলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর সেখানে ৩ বছরের মধ্যে আরও বৃদ্ধি পাবে।

আপার কূর্তির গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ও বিজেপির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভুজেল বলেন, শীতের এই সময়ে এলাকার লোকেরা পানীয় জল পাচ্ছেন, এটা আগে ভাবাই যেত না। প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত বিডিও, টিম প্রসারী ও পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক ববিতা প্রধানদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট বিডিও ডেনুকা রাই, চম্পাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ববিতা কছুয়া, লোয়ার কূর্তির পঞ্চায়েত সদস্য বিকাশ ছেত্রী প্রমুখ।