কোচবিহারে জলপ্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি

144

কোচবিহার : রাজ্যের শাসকদলের চারজন পুর চেয়ারম্যান মিলে ১০ বছরে কোচবিহার শহরে জলপ্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেননি। ৬৫ কোটি টাকার জলপ্রকল্পের শেষ পর্যায়ে কাজ এখনও বাকি রয়েছে টাকার অভাবে। বিদায়ি পুর চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বেশ কয়েকবার ক্ষোভ জানিয়েছেন, রাজ্য টাকা না দেওয়ায় তিনি জলপ্রকল্প সহ পুর এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করতে পারেননি। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করেও শেষ পর্যন্ত টাকা আনতে পারেননি ভূষণ সিং। ফলে তিনি প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হয়ে টাকা এনে জলপ্রকল্পের কাজ করে ফেলবেন, এমন ভরসা শহরের অতি বড় তৃণমূল সমর্থকও করছেন না। বরং, শহরের তৃণমূল কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে ও পুরভোটে এ জন্য দলকে জলে না পড়তে হয়। ইতিমধ্যেই জলপ্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। রাজ্যের কাছ থেকে তৃণমূলের পুরবোর্ড টাকা আনতে ব্যর্থ বলেও তারা ইশ্যু করছে। কেন রাজ্য থেকে টাকা বরাদ্দ করে জলপ্রকল্পের কাজ শেষ করা হল না, এ নিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজ পাঠালে উত্তর দেননি। কোচবিহার পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, জলপ্রকল্পের কাজ এখন বন্ধ রয়েছে। তবে শীঘ্রই চালু হবে। রাজ্যকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন এলেই কাজ শুরু করা হবে।

এক দশক ধরে কোচবিহার শহরে পানীয় জলের হাহাকার চলছে। শহরের ২০টি ওয়ার্ডেই কমবেশি পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধানে কোচবিহার শহরের প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান প্রয়াত বীরেন কুণ্ডু ২০১০ সালে একটি জলপ্রকল্প তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন তিনি কংগ্রেসে থাকলেও পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দেন। কোচবিহার শহর লাগোয়া তোর্ষা নদী থেকে জল তুলে শহরের বিবেকানন্দ স্ট্রিট এলাকায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পরিশোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি, বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। চার বছর কাজের পর ২০১৪ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে বীরেনবাবু মারা গেলে পুর চেয়ারম্যান হন দীপক ভট্টাচার্য। ১১ মাস পর ২০১৫ সালে পুর নির্বাচন হলে পুরসভার চেয়ারপার্সন হন বীরেনবাবুর স্ত্রী রেবা কুণ্ডু।  রেবাদেবী ২০১৭ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এরপর তৃণমূলের বোর্ড থাকলেও দুর্নীতির অভিযোগে রেবা কুণ্ডুকে সরিয়ে ভূষণ সিংকে চেয়ারম্যান করা হয়। চলতি বছরের ২১ মে পর্যন্ত পুরবোর্ডের মেয়াদ ছিল। কিন্তু এই সময়ে মধ্যে রাজ্য থেকে টাকা এনে জলপ্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেননি ভূষণবাবু। প্রায় এক দশক ধরে রাজ্যে ও পুরসভায় তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলেও কেন কোচবিহার শহরের মানুষের জলকষ্ট মিটল না, এই কৈফিয়ত দিতে সমস্যায় পড়তে হবে বলেই মনে করছেন তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীরা।

- Advertisement -

কোচবিহার শহরে এখন প্রায় ছয় হাজার পরিবার পানীয় জলপ্রকল্পের সুবিধা পায়। এখনও প্রায় ১৩ হাজার বাড়িতে সংযোগ দেওয়া বাকি রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৭ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। বহু এলাকায় পাইপলাইন বসানোর পরেও পানীয় জল সরবরাহ করা যায়নি। পুরসভা সূত্রে খবর, ৬৫ কোটির প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকা খরচও হয়ে গিয়েছে। বিজেপির কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতী রাভা বলেন, ৬৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প নিয়ে ছিনিমিনি করা হয়েছে। মানুষ জল পায়নি। প্রকল্পে টাকা নয়ছয় হয়েছে। আমরা এই প্রকল্প নিয়ে বড়সড়ো আন্দোলনে নামব। পুরভোটে ও বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে এ নিয়ে শহরের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন করেছি। এই প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। এই প্রকল্পের তদন্তের দাবি রাখছি। ভোটে এর ফল তৃণমূল হাতেনাতে পাবে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, আগে তো আমি দলের জেলা সভাপতির দাযিত্বে ছিলাম না। এখন দায়িত্ব নিয়েছি। কেন এমন হল, এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।