নিয়ম না মেনে সরকারি বাসে আনা হচ্ছে শ্রমিকদের

কল্লোল মজুমদার, মালদা : সর্বাধিক ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলের নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু অভিযোগ উঠছে যে, ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের মালদায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারি বাসেই মানা হচ্ছে না সেই নির্দেশিকা। বরং একেকটি বাসে চাপিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ জন করে শ্রমিক। ফলে বালাই নেই সামাজিক দূরত্বনীতি মানামানিরও। এই ঘটনায় রীতিমতো আশঙ্কায় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার কর্মীরা। কর্মীদের দাবি, প্রয়োজনে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করুক সরকার। কিন্তু একেকটি বাসে ২০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে আসার প্রবণতা বন্ধ হোক।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মালদা জেলার প্রায় ৪৫ হাজার শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যে আটকে রয়েছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই বহু পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে এসেছেন এই জেলায়। ভিনরাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের ওই রাজ্যের সরকারই পৌঁছে দিচ্ছে বাংলার সীমান্তে। আর সেখান থেকে তাঁদের বাসে করে নিয়ে আসা হচ্ছে মালদা জেলায়। শনিবার মালদা জেলায় ওডিশা সীমানা থেকে এসে পৌঁছায় ১০টি বাস। ওই বাসগুলিতে ৪০০-রও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে অনেকের বাড়িই দক্ষিণ দিনাজপুরে। অভিযোগ, দক্ষিণ দিনাজপুরের পরিযায়ী শ্রমিকদের নামিয়ে দেওয়া হয় বাইপাসের ধারে। তারপর তাঁদের নিজেদের উদ্যোগেই ফিরতে হয় জেলায়। তবে মালদার শ্রমিকদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় পলিটেকনিকে। সেখানে তাঁদের নামানো হয় শনিবার ভোরবেলা। এদিন পুরাতন মালদার মাধাইপুর গ্রামের এক শ্রমিক ওবাইদুল্লা শেখ বলেন, আমাদের দীর্ঘসময় বসিয়ে রাখলেও কোনওরকম পরীক্ষা করা হয়নি। অনেকে নিজেদের উদ্যোগে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। কোনওরকম সরকারি সাহায্য তাঁদের আর করা হয়নি। শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, ওডিশার সীমানা থেকে একেকটি বাসে ৪০ থেকে ৫০ জন করে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়েছে। সেক্ষেত্রে যেমন মানা হয়নি সরকারি নির্দেশিকা, তেমনই লঙ্ঘিত হয়েছে সামাজিক দূরত্বনীতি।

- Advertisement -

এনিয়ে সিটুর রাজ্য কমিটির সদস্য নুরুল ইসলামের অভিযোগ, সম্প্রতি পুরাতন মালদা থেকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাসে করে একদল শ্রমিককে ভিনজেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই বাসগুলিতে ৪০ থেকে ৫০ জন করে শ্রমিককে তুলে দেওয়া হয়। গাড়ির চালক তা নিয়ে প্রতিবাদ জানালেও কোনও সুরাহা হয়নি। একরকম জোর করেই ওই চালকদের অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে সফর করতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আমাদের দাবি, পরিবহণকর্মীরা অবশ্যই তাঁদের কাজ করবেন। কিন্তু প্রশাসনের উচিত তাঁদেরও সুরক্ষার বিষয়টিতে নজর দেওয়া। আমরা চাই, সরকারি নির্দেশিকা মেনে একেকটি গাড়িতে ২০ জনের বেশি য়েন যাত্রী না নেওয়া হয়। প্রয়োজনে আরও বেশি বাস চালানো হোক। বিষয়টি নিয়ে আমরা এবং বাস চালকরা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার মালদা জেলা ডিপো ইনচার্জের কাছে অভিযোগ করেছি।

অন্যদিকে, শুক্রবার আজমের ফেরত চার পরিযায়ী শ্রমিকের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা সিউড়ি ডিপোর সরকারি বাসে এসেছিলেন। প্রশাসনের উদ্যোগে ওই ডিপোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্ত বিষয়টি জানানো হয়েছে। যাতে ডিপো কর্তৃপক্ষ ওই বাসগুলির চালক এবং খালাসিদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। এছাড়াও এদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে ফিরে আসা একটি বাসের চালক মালদা ডিপোতে ঘোরাফেরা করলে তাঁকে অন্যান্য কর্মীরা হোম কোয়ারান্টিনে থাকার কথা বলেন। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। এই নিয়ে এদিন মালদা ডিপোতেও আতঙ্ক তৈরি হয়। মালদা ডিপোর ডিআই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাসের চালকদের কোয়ারান্টিনে পাঠানোর কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই। একই কথা বলেন এডিএম (এলআর) পালদেন শেরপা।