বোনাসের দাবিতে আন্দোলন শ্রমিকদের

152

রাজগঞ্জ: দুর্গাপুজোর আগে থেকে জলপাইগুড়ি জেলার বটলিফ কারখানার শ্রমিকরা বোনাসের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। পুজো শেষ হয়ে গেলেও এখনও অনেক কারখানার শ্রমিকদের দাবিমতো বোনাস মেলেনি। কালীপুজোর আগে বোনাস পাওয়া যাবে কি না সেব্যাপারে মালিকপক্ষ আশ্বাস দেন নি। তাই ফের আন্দোলন শুরু করেছে শ্রমিকরা। রবিবার রাজগঞ্জের বন্ধুনগর এলাকার মানসরোবর কারখানার সামনে শ্রমিকরা ২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন তৃণমূল ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের জলপাইগুড়ি জেলার সম্পাদক তপন দে।

বন্ধুনগরের ওই চা কারখানার শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রায় ৭০ জন শ্রমিক কাজ করেন। মালিকপক্ষ পুজোর আগে বোনাস না দেওয়ায় সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারেন নি। সংসারেও অভাব দেখা দিয়েছে। কালীপুজোর আগে বোনাস পাবেন কি না সেব্যাপারেও মালিকপক্ষ পরিষ্কারভাবে জানান নি। তাই আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

- Advertisement -

কারখানার ম্যানেজার রানা সরকার বলেন, ‘মালিক সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী অগ্রিম হিসেবে ১৭ শতাংশ বোনাস দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু তা শ্রমিকরা নিতে রাজি হয়নি।’ টিআইইডব্লিউইউ এর জেলা সম্পাদক তপন দের অভিযোগ, ২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে পুজোর আগে থেকে আন্দোলন করা হচ্ছে। হাতেগোনা কয়েকটি কারখানা ২০ শতাংশ, কেউ ১৯ শতাংশ এবং কেউ ১৮.৫০ শতাংশ বোনাস দিয়েছে। কিছু কারখানার শ্রমিকরা অগ্রিম নিয়েছে। কিন্তু মালিক অ্যাসোসিয়েশন ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা না করে ১৭ শতাংশ বোনাস অগ্রিম দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। কালীপুজোর আগে বোনাস চূড়ান্ত করার জন্য ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানালেও সেব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও চিঠি দেয়নি। তাই বিভিন্ন কারখানার সামনে বিক্ষোভ চলবে। তিন দিনের মধ্যে চিঠি না দেওয়া হলে কারখানা চালু রাখা হলেও প্রস্তুত চা বাইরে নিতে দেওয়া হবে না।

নর্থবেঙ্গল টি প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় ধানোটিয়া বলেন, ‘বৈঠকে সব ইউনিয়ন উপস্থিত না থাকায় পুজোর আগে বোনাস চূড়ান্ত হয়নি। তাই শ্রমিকদের কথা ভেবে ১৭ শতাংশ বোনাস অগ্রিম হিসেবে দেওয়ার কথা ঘোষণার পাশাপাশি কালীপুজোর আগে বৈঠক করার কথা জানানো হয়। সেব্যাপারে ইউনিয়নগুলিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কবে বৈঠক করা হবে তা দু’একদিনের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।’