A security personnel stands guard at a roadblock in Jammu on August 7, 2019. - A protester died after being chased by police during a curfew in Kashmir's main city, left in turmoil by an Indian government move to tighten control over the restive region, a police official said on August 7. (Photo by Rakesh BAKSHI / AFP)

আশরাফুল হক, চাকুলিয়া : কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়া ও গোয়ালপোখর এলাকার বহু শ্রমিক। কাশ্মীরে এখন মোবাইল ও ইনটারনেট পরিসেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে চারদিন ধরে পরিবারের কেউ কাশ্মীরে আটকে থাকা আপনজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেননি। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করাই সম্ভব হয়নি। এতে এই শ্রমিক পরিবারগুলি এখন গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি পর্যটক থেকে শুরু করে ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এরপর থেকে বিদেশি পর্যটক সহ অন্যরা রাজ্য ছেড়ে যেতে পারলেও এই এলাকার শ্রমিকরা ফিরে আসতে পারছেন না। তাঁদের পরিবারগুলির দাবি, পারিশ্রমিকের টাকা সময়মতো না পাওয়ার জন্য তাঁরা আসতে পারছেন না। ফলে তাঁদের সেখানে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। তাঁরা এখন ঠিক কী করবেন তাও ভেবে কুল পাচ্ছেন না। যে সব মালিকের বাড়িতে শ্রমিকরা এতদিন কাজ করেছিলেন, ব্যাংক, ইনটারনেট পরিসেবা বন্ধ থাকায় সেইসব মালিক শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকুলিয়া ও গোয়ালপোখর এলাকার বহু শ্রমিক কাশ্মীরে কাজে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে চাকুলিয়া এলাকার ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন গ্রামের রয়েছেন শতাধিক শ্রমিক। বিশেষ করে চাকুলিয়ার ঘরধাপ্পা ও বালাঞ্চা গ্রামের রয়েছেন কুড়ি-পঁচিশজন। তাঁরা সবাই আটকে পড়েছেন। তাঁরা সেখানে কী অবস্থায় আছেন কোনো খবর নেই পরিবারের কাছে। এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেকেই। ঘরধাপ্পা গ্রামের বিবি রোমিশা বলেন, আমার ছেলে নবিজুল হক তিন মাস আগে কাশ্মীরে গিয়েছিল। তারপর প্রতিদিন রাতে আমার ছেলের সঙ্গে ফোনে একবার করে কথা হত। তখন এত দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম না। তিন দিন আগে ছেলের সঙ্গে একবার কথা হয়েছিল। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। এ ঘটনা আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ছেলেকে বাইরে কাজে যেতে বারণ করেছিলাম। এর আগে সে কোনোদিন বাইরে যায়নি। এবার প্রথম গিয়েছে। এখন ছেলের কোনো খোঁজখবর পাচ্ছি না। এ কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন রোমিশা। অপর বাসিন্দা এসতাব আলি বলেন, এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ গরিব। দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতে বাধ্য হয়ে অনেকেই বাইরে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করছেন। কাশ্মীরে রয়েছেন আমাদের গ্রামের বারো-তেরোজন। প্রত্যেকের পরিবার এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। এ সমস্যার কথা গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে আমরা জানিয়েছি। তাঁরা যেন দলের উপরমহলে জানিয়ে কোনো একটা ব্যবস্থা করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কেউ এগিয়ে আসেননি। চাকুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়ে প্রধান বিবি তাজকেরা খাতুন বলেন, কাশ্মীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেছি। পরিবারগুলিকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এলাকার কতজন শ্রমিক কাশ্মীরে রয়েছেন তার তথ্য সংগ্রহ করে এলাকার মন্ত্রী গোলাম রব্বানির কাছে পেশ করা হবে। ইসলামপুর মহকুমার শ্রম দপ্তরের আধিকারিক শেখ নৌসাদ আলি বলেন, শ্রমিকদের সমস্যাটা হয়েছে বাইরের রাজ্যে। এঁদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন রাজ্যস্তরের আলোচনা। এলাকার বিধায়ক ও মন্ত্রী এর সমাধান করতে পারেন। তবুও প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করছি। রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী গোলাম রব্বানি বলেন, শ্রমিকদের ব্যাপারে আমার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তথ্য পেলে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।