২০ টাকায় এক টিন জল কিনে খাচ্ছেন শ্রমিকরা

81

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : এই বাগানের মাথায় দেশের সেরা হওয়ার তকমা রয়েছে। তাতে কী! বাগানে পরিস্রুত পানীয় জলের মতো ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। ফলে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া ভারত সেরা ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে দুই হাজার শ্রমিককে প্রতিদিন জল কিনে খেতে হয়। টিনপ্রতি ২০ টাকা হিসাবে। বাধ্য হয়ে বাগানে শ্রমিকদের একটি অংশ কাঁচা কুয়োর জলই খান। এভাবে সমস্যায় পড়ায় শ্রমিকরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। জলই শুধু সমস্যা নয়। বাগানের রাস্তাঘাট চলাফেরার উপযুক্ত নয়। ন্যূনতম মজুরি চুক্তি হয়নি। ফলে শ্রমিকদের ক্ষোভ প্রতিনিয়তই বাড়ছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটে শ্রমিকরা পানীয় জল আর ন্যূনতম মজুরি চুক্তিকেই ইস্যু করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাগানের ম্যানেজার জেসি পান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর প্রতিক্রিয়া, আমরা বাগানে ২৪ ঘণ্টা পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করতে পারি না। পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহে গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগী হওয়া উচিত। চা শ্রমিকরা পঞ্চায়েতে ভোট দেন। রাস্তার উন্নয়নের বিষয়ে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, বর্তমানে আদর্শ নির্বাচনিবিধি কার্যকর রয়েছে। কোনও রকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া চলবে না। আদর্শ নির্বাচনিবিধি উঠে যাওয়ার পর সমস্যা মেটাতে আমরা বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসব।

- Advertisement -

ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের শ্রমিকরা  ইস্ট, ওয়েস্ট, জগো লাইনে বসবাস করেন। বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে শ্রমিক ধরম মুন্ডার সঙ্গে দেখা হল। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে ধরমের পরিবার। ধরম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিস্রুত পানীয় জল মিলছে না। তীব্র আর্থিক অনটনে ভুগলেও এক টিন জল ২০ টাকায় কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছি। জলপাইগুড়ি থেকে প্রতিদিন আমাদের বাগানে পরিস্রুত পানীয় জলের গাড়ি আসে। সেখান থেকেই জল কেনা হয়। দুর্গী ওরাওঁ, সীমা ওরাওঁ, মালতী তিরকি, জাহেদা বেগমরা জানান, ভোট আসে, ভোট যায় কিন্তু ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের সমস্যা মেটে না।

সীমার কথায়, চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি চুক্তির আওতায় আনা হবে বলে নেতারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, প্রতিশ্রুতিই সার। ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পর বৈঠক হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের হাল ফিরছে না। প্রতিদিন ২০২ টাকা মজুরি নিয়ে তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। প্রতিটি নিত্যপ্রযোজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। সামান্য মজুরি দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। ন্যূনতম মজুরি চুক্তিই এবারে আমাদের অন্যতম ভোটের ইস্যু। রাকেশ ছেত্রী, কিশোর ওরাওঁ, থানু ওরাওঁরা জানালেন, চা শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে নেতা-মন্ত্রীদের খুব বেশি চিন্তাভাবনা আছে বলে আমাদের মনে হয় না। বাগানের অভ্যন্তরের রাস্তা খারাপ। রাস্তা খারাপের বিষয়ে মালিকপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা পঞ্চায়েতকে দেখায়। আবার পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হলে তারা বাগান কর্তৃপক্ষকে দেখায়।