রাজ্যে ঢুকতে না পেরে ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমানায় বিক্ষোভ শ্রমিকদের

206

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তে ডুবুরডিহি চেকপোস্টে আটকে পড়ে প্রায় ৩৫০-এরও বেশি শ্রমিক। বাড়ি ফিরতে না পেরে ঝাড়খণ্ড সরকারের পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় তারা। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের জেরে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকেরই বাড়ি বিহারে। কিছু ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দাও রয়েছেন। আটকে পড়া শ্রমিকেরা বলেন, ‘আমরা বাংলার বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করি। লকডাউনে সব কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে যা জমানো টাকা ছিলো তা দিয়ে এতদিন চললো। সেই টাকা এখন শেষ। বন্ধ হয়ে যাওয়া কাজ কবে আবার চালু হবে, তাও জানিনা। তাই আমরা পায়ে হেঁটে ও সাইকেলে নিজেদের বাড়ি ফিরছিলাম। কিন্তু ঝাড়খণ্ড সরকার আমাদের নিজেদের রাজ্যে ঢুকতে দিচ্ছে না। সীমান্তে ঝাড়খণ্ড (চিরকুন্ডা থানা) পুলিশ আমাদের আটকে দিয়েছে।

তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, গত তিন দিন ধরে আমরা প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের না দেওয়া হচ্ছে খাবার। না পাচ্ছি জল। ঝাড়খণ্ড সরকারের পুলিশ ও প্রশাসন আমাদের শুধু বলছে ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু তারা কোন কিছু ব্যাবস্থা করছে না। তাই বাধ্য হয়ে এদিন আমরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করি। আমাদের শুধু অনুরোধ, খাবার বা জল কিছু চাইনা। শুধু নিজেদের বাড়ি যাওয়ার জন্য রাজ্যে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হোক। আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে, ১৪ দিন কোয়ারান্টাইন সেন্টারে রাখা হোক। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সরকার নিজের রাজ্যের শ্রমিকদের বাসে করে রাজ্যে ফেরত নিয়ে গেলো। তবে আমাদের কেন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না? কত দিন আমরা এইভাবে অনাহারে দিন কাটাবো?

- Advertisement -

এই বিক্ষোভ বেশ কয়েক ঘন্টা চলার পর বাংলার মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলার ১০টি সরকারি বাসে করে ৩৫০ শ্রমিকদের তাদেরকে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যাবস্থা করা হয় । তাদেরকে শারীরিক পরীক্ষা করে নিজের নিজের রাজ্যে বা জেলায় ছাড়া হবে, এই আশ্বাস পেয়ে বিকালের পরে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়। পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের তরফে তাদের নাম ও ঠিকানা নথিভুক্ত করা হয়। তারপর তাদের নিজের রাজ্যে ফেরত পাঠানোর ব্যাবস্থা করা হয়।কিন্তু ঝাড়খণ্ড সরকারের তরফে তাদেরকে বলা হয় সঠিক কাগজ থাকলে তাদের ঢুকতে দেওয়া হবে। কিন্তু তাদের সঙ্গে থাকা সাইকেল নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই সাইকেল ফেলে বাসে করে বাড়ি ফেরেন। কেউ কেউ জলের দরে সাইকেল বিক্রি করেন। যা নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিলো যথেষ্ট।

এই প্রসঙ্গে ঝাড়খন্ডের ধানবাদ জেলা প্রশাসন ও চিরকুন্ডা থানার পুলিশ আধিকারিকরা বিকেলে বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। সরকার যা নির্দেশ দিয়েছে, তাই আমরা করেছি। এই প্রসঙ্গে আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি ( পশ্চিম) অনমিত্র দাস এদিন বলেন, রাজ্য সরকারের তরফে ঐ শ্রমিক দের বাড়ি ফেরার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।