অন্য রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরল তিনশোরও বেশি শ্রমিক, করোনা সন্দেহে আতঙ্ক চাঁচলে

429

সামসী: চাঁচল-১ ব্লকে ভিন রাজ্য থেকে ফিরলেন তিনশোরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক। শ্রমিকরা ফিরতেই চরম আতঙ্কে দিন কাটছে চাঁচলবাসীর। রবিবার ও সোমবার পর পর দু’দিনে তিনশোরও বেশি শ্রমিক বাড়ি ফিরেছে। সরকারের নির্দেশে অন্য রাজ্যে থেকে ফেরার পর দু’সপ্তাহ গৃহবন্দী থাকার কথা থাকলেও একাধিক শ্রমিক দাপিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার খরবা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শ্রমিকদের জন‍্য স্কুলে খোলা হয়েছে কোয়ারান্টিন। তবে এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ তারা সেখানে থাকছেন না। শ্রমিকদের আলাদাকরে কোয়ারান্টিন ব্যবস্থায় রাখার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসীরা।

এদিকে অনেক চেষ্টার পর চাঁচলে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পেরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে শ্রমিকরা। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, ‘মালদা জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মৌসম নুরের কাছে আবেদন করেছিলাম। তাঁর চেষ্টায় এবং রাজ্য সরকারের ব্যবস্থাপনায় শতাধিক শ্রমিক বাড়ি ফিরে এলেন।’ তবে ভিন রাজ্য থেকে ফিরতেই করোনা আক্রান্ত সন্দেহে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন চাঁচলবাসী।

- Advertisement -

লকডাউন ঘোষনার পর বাস ও ট্রেন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছিলেন ভিন রাজ‍্যের শ‍্রমিকরা। তবে চরম সঙ্কটেও সোমবার কলকাতা থেকে চাঁচল পৌঁছায় ১০৫ জন। মহিলা শ্রমিকদের একজন আমিনা বিবি বলেন, ‘লকডাউন ঘোষনার পর বাড়ি ফেরা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। পরিবারের লোকেরাও উদ্বিগ্ন ছিলেন।’ এদিন ভোর চারটে নাগাদ বাস থেকে নেমেই সোজা চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্বাস্থ‍্য পরীক্ষার জন‍্য লাইনে দাড়িয়ে যান শ্রমিকরা। লাইনে দাড়িয়ে থাকা সকলেরই বক্তব‍্য,’আমরা সচেতন রয়েছি। প্রশাসনিক আদেশনুসারে ও ভারতকে করোনা মুক্ত করতে লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

চাঁচল-১ ব্লকের মোট আটটি জিপিতেই ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের থাকার জন্য কোয়ারান্টিন খোলা হোক এমন দাবী উঠেছে চাঁচলের সর্বত্রই। ইতিমধ্যেই খরবা পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ তিনটি স্কুলে কোয়ারান্টিন ব্যবস্থা করে। বাকিদেরও উদ‍্যোগী হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে ব্লক প্রশাসনের তরফে। সোমবার চাঁচল-১ ব্লকের মতিহারপুর জিপিতে কোয়ারান্টিন খোলার জন্য একটি সর্বদলীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওই জিপির উপ প্রধান পিংকি খাতুন, জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন, ডিআইবি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ নাদেরুজ্জামান, সন্তোষপুর কাতলামারি হাই মাদ্রাসার টিআইসি বেলাল হোসেন, বসন্তপুর কাঞ্চনটোলা হাই মাদ্রাসার টিআইসি সরিফুল আলম প্রমুখ।

উপপ্রধান পিংকি খাতুন বলেন, ‘মতিহার জিপি এলাকায় ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের থাকার জন্য এলাকার আরও তিনটি স্কুলে কোয়ারান্টিন খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ চাঁচল-১ বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রত্যেক পঞ্চায়েত এলাকা গুলিতে ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের জন্য সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধানদের কোয়ারান্টিন খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি কোয়ারান্টিন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ কথা না শুনলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’